নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেল-গেস্ট হাউসের অগ্নিনিরাপত্তা অডিটের নির্দেশ, তদন্তে সিট গঠন

Image: SNS

তারাপীঠের হোটেলে আগুন লাগার ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই কলকাতার নিউ মার্কেটের (New Market) একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুনে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। পর পর ঘটা দুই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এবার রাজ্যের হোটেল (Hotel Fire) ও গেস্ট হাউসগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে বেসরকারি হোটেল  (Hotel Fire) ও গেস্ট হাউসগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি নিউ মার্কেটের (New Market)  অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী (Koushik Chowdhuri)। তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে লালবাজার (Lalbazar) । হোটেল চত্বর ঘুরে দেখেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও।

রাজ্যজুড়ে অগ্নিনিরাপত্তা অডিট

নিউ মার্কেটের (New Market)  অগ্নিকাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর  (Suvendu Adhikari) সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী (Koushik Chowdhuri)। দমকল দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। কেন একের পর এক হোটেল আগুন (Hotel Fire) লাগছে এবং আগুন (Hotel Fire) লাগার পর আবাসিকদের নিরাপদে বের করে আনতে সমস্যা হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।


এরপরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বেসরকারি হোটেল (Hotel Fire) ও গেস্ট হাউসগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা অডিট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোথায় প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই, কোথায় নিয়ম মানা হয়নি এবং কোন হোটেল বা গেস্ট হাউস কী ধরনের সরকারি অনুমোদন নিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুন: নিউ মার্কেটের একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ৯ জনের মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা

‘ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে হোটেল’  

দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীর (Koushik Chowdhuri) অভিযোগ, গত ১৫ বছর বা তারও বেশি সময়ে রাজ্যে বহু হোটেল ও গেস্ট হাউস তৈরি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, স্থানীয় পুরসভা ও প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে কীভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলি তৈরি হল এবং নিয়ম না মেনে কীভাবে একের পর এক লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।

দমকল প্রতিমন্ত্রীর (Koushik Chowdhuri) দাবি, প্রাথমিকভাবে যে বিষয়গুলি সামনে এসেছে, তাতে এই ধরনের হোটেল ও অতিথিশালা তৈরির ক্ষেত্রে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই রাজ্যজুড়ে অডিট করে অতীতে কীভাবে নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে, তার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

নিউ মার্কেটের ভবন নিয়েও প্রশ্ন

মির্জা গালিব স্ট্রিটের যে বহুতলে আগুন লেগেছে, সেখানে একাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউস (Hotel Fire)রয়েছে। প্রায় প্রতিটি তলাতেই আলাদা হোটেল রয়েছে বলে খবর। ঘরগুলিও অত্যন্ত ঘিঞ্জি এবং ভবন থেকে বেরোনোর পথ খুবই সরু।

দমকল দপ্তরের এক আধিকারিকের দাবি, তিনতলার একটি হোটেল থেকে আগুন  (Hotel Fire) লাগে। পরে ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে যায়। গোটা হোটেল (Hotel Fire) ধোঁয়ায় ভরে যায়। ফলে আবাসিকরা কোন পথ দিয়ে বেরোবেন তা বুঝতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক নিয়ম সেখানে মানা হয়নি।

এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে প্রয়োজনীয় দমকলের ছাড়পত্র ছাড়াই কি হোটেলগুলি চলছিল?  পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না এবং ঘিঞ্জি ঘরগুলিতে আবাসিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল কি না, সেসবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: তারাপীঠের একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুন, মৃত কমপক্ষে ৯ পুণ্যার্থী, গ্রেপ্তার হোটেল মালিক

তারাপীঠের ঘটনাতেও ৯ জনের মৃ্ত্যু

সোমবার ভোরে তারাপীঠের একটি বেসরকারি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯ জুন আবাসিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় হোটেল মালিক প্রবীর পাল এবং তাঁর ছেলে কল্যাণ পালকে গ্রেপ্তার করে তারাপীঠ থানার পুলিশ। পরপর দুই ঘটনায় মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।

রাজনৈতিক তরজা শুরু

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠকের অভিযোগ, রাজ্যের তৃণমূল সরকারের আমলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, প্রশাসনের গাফিলতির ফলেই সাধারণ মানুষকে এর মূল্য দিতে হচ্ছে।

গত ১৫ বছরে দমকল দপ্তরের দায়িত্বে বিভিন্ন সময়ে জাভেদ খান, শোভন চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং শেষ পাঁচ বছর সুজিত বসু ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে অতীতে হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলিকে কীভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং নিরাপত্তার নিয়ম কতটা মানা হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্তে দাবি উঠেছে।

দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/MWCRI_LCbqY?si=0w5rezAiSygoeztX” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>