রাজ্যের নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি ঘোষণার তারিখ চূড়ান্ত, নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত

CM Suvendu Adhikari Cabinet Meeting Photo-SNS

বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পশ্চিমবঙ্গের বহু প্রতীক্ষিত নতুন শিল্পনীতি বা নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি। দুর্গাপুজোর আগেই এই নীতি প্রকাশ্যে আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ৫ নভেম্বর নবান্ন সভাঘর থেকে এই নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৫ নভেম্বর নবান্ন সভাঘরে ঘোষণা করা হবে রাজ্যের নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি। মন্ত্রিসভায় এই নীতিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই দিনে হুগলির পুরশুড়া থেকে প্রায় ৪৮ লক্ষ কৃষককে ২ হাজার টাকা করে দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে এই মন্ত্রিসভায়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির রাজ্যের অংশ হিসেবে এই অর্থ প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজ্যের কৃষক বন্ধু প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি। রাজ্যে বৃহৎ শিল্প সংস্থা এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ইনসেনটিভ, দ্রুত অনুমতির জন্য কার্যকর সিঙ্গল উইন্ডো নীতি এবং জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা হতে পারে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। ১০০ একর বা তার বেশি জমিতে শিল্প করলে তাদের শিল্পের অনুমতির ক্ষেত্রে দ্রুততার সঙ্গে সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেমের মাধ্যমে অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। শিল্পের জন্য যাঁদের জমি দেওয়া হবে সেই জমিতে তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করতেই হবে। না হলে জমি ফিরিয়ে নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। শিল্পনীতিতে এমন কিছু শর্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

অন্যদিকে আগামী ৫ নভেম্বর তারিখের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রী। অন্যান্য প্রতিনিধিরা নানা জেলা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। মন্ত্রিসভার আরও একটি সিদ্ধান্ত হল, যেসব দপ্তর ইতিমধ্যেই তাদের বাজেট বরাদ্দের ৩৫ শতাংশ অর্থ খরচ করেছে, তাঁদের পরবর্তী পর্যায়ের অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে অর্থ দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কালীপুজো উপলক্ষে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রীদের নানা জেলার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। আগামী ১১ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে পালিত হবে জনজাতি গৌরব দিবস। আগামী ৫ নভেম্বর হুগলির পুরশুড়ায় জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের উপস্থিতিতে প্রায় ৪৮ লক্ষ নথিভুক্ত কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ২০০০ টাকা সরাসরি হস্তান্তর করা হবে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, জনসেবা এবং প্রশাসনিক নজরদারি বজায় রাখতে রাজ্যের প্রত্যেক মন্ত্রীকে নির্দিষ্ট একটি করে জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।


তাছাড়া  নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠককে ঘিরেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যেই। মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে শিল্পনীতি ঘোষণা, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা এবং প্রশাসনিক ব্যয় বিষয়ক পদক্ষেপ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে আগেই শিল্পপতিদের রাজ্যে বিনিয়োগ করার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, ১৫৫-৩৩৫ টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে। কোথাও কেউ হুমকি দিলে বা তোলাবাজি করলে এই নম্বরে জানালেই সরকার পদক্ষেপ করবে।