সরকারি অফিসের চিঠিপত্রে আধিকারিকের নাম-পদবি বাধ্যতামূলক, নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন

Nabanna Photo-SNS

এবার নতুন একটি নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক নথিপত্রের স্বচ্ছতা এবং আধিকারিকদের পরিচয় নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশিকা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার থেকে রাজ্য সরকারের অধীনে সব দপ্তর এবং অফিসের সরকারি চিঠিপত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের নাম ও পদবি উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হলো। নবান্নের পক্ষ থেকে এই নির্দেশিকা মঙ্গলবার জারি হতেই আলোচনা শুরু হয়ে গেল। নানা আশঙ্কার কথা চর্চিত হলেও বিষয়টিতে স্বচ্ছতা বাড়বে এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

এদিকে এখানেই বিষয়টি শেষ নয়, রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের হার্ড কপি ফাইলের ক্ষেত্রে সই করার পাশাপাশি অফিশিয়াল সিল ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মঙ্গলবার নবান্নের পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস দপ্তরের পক্ষ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বহু চিঠিপত্রে সরকারি সিল থাকে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ সরকারি কাজে একেবারেই কাম্য নয়। সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছে নবান্ন। কাজে কেন স্বচ্ছতা থাকবে না? এমন প্রশ্নও তোলা হয়েছে। তারপর থেকেই এমন নির্দেশিকা জারি হয়েছে।

অন্যদিকে একজন আধিকারিক সরকারি চিঠিপত্র দেখে নিজের মতো করে রেখে দিতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চিঠির জবাব দিলেও তাতে সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকের নাম, পদবি উল্লেখ করা থাকত না বলে অভিযোগ উঠেছে। সুতরাং স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিত। এই সংস্কৃতি যে বদলের দরকার সেটা অনুভব করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরই এবার নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে সব অফিস থেকে পাঠানো এবং ওই অফিসগুলিতে আসা সরকারি চিঠিপত্রে আধিকারিকদের নামের সঙ্গে তাঁদের পদবি উল্লেখ করতে হবে। আর এক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে অফিশিয়াল সিল ব্যবহার করতে হবে।


তাছাড়া এবার থেকে নবান্ন-সহ জেলার মহকুমাশাসক, জেলাশাসকের দপ্তরে চালু হচ্ছে জনতার দরবার। সপ্তাহে দু’দিন তা হবে। তাই সেখানে বহু চিঠিপত্র থেকে শুরু করে নানা নথি এসে জমা হতে পারে। তাই সেগুলি কে দেখছেন এবং কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন সেসব উল্লেখ করতে হবে। যাতে পরবর্তী ক্ষেত্রে সেই বিষয় নিয়ে এগোলে কোনও সমস্যা না হয়। এই পথে এগোলে কোন নথিতে কে স্বাক্ষর করেছেন, তাঁর পদমর্যাদা কী এবং স্বাক্ষরটি প্রকৃতপক্ষে অনুমোদিত কিনা সেটা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এই নির্দেশ কার্যকর করতে রাজ্যের সব দপ্তর, ডিভিশন, জেলা প্রশাসন, ট্রেজারি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলিতে সেটা পাঠানো হয়েছে। এই নির্দেশিকা জারি হলে সরকারি ফাইল পরিচালনা ও চিঠিপত্র আদানপ্রদানের কাজ আরও স্বচ্ছ হবে।