নাগাড়ে বৃষ্টি চলছে একাধিক জেলায়। প্রকৃতির এই বর্ষণমুখর পরিস্থিতিতে নদীর জল কোথাও কোথাও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে বহু বাড়িঘর। বানভাসী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নানা জেলায়। এই আবহে গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিভিসি’র জল ছাড়া। তাতে পরিস্থিতি আরও বিগড়েছে বলেই খবর। বিশেষ করে চারটি জেলার অবস্থা খুব খারাপের দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার জন্যই নবান্নের পক্ষ থেকে চার জেলার জেলাশাসককে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ডিভিসি’র কাছে ইতিমধ্যেই ফোন করা হয়েছে। যাতে জল কম ছাড়া হয়। এমনকী বর্ষা যদি আরও গতি নেয় তাহলে বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও জেলায় যদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে তা রাজ্য সরকারের কাছে বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়াবে। ডিভিসি’র জলে বন্যার ভয় দেখা দিয়েছে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। হুগলি জেলার দামোদর পাড়ের গ্রামে জল ঢোকা শুরু করেছে। এই অবস্থায় বিপদ এড়াতে নদীর পাড়ে চলছে মাইকে প্রচার। ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়ছে ডিভিসি বলে সূত্রের খবর। তার ফলে বন্যার কমলা সতর্কতা জারি করেছে খোদ ডিভিসি। ১ লক্ষ ২৩ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়তে শুরু করেছে দুর্গাপুর ব্যারাজও। তাই দুশ্চিন্তা বাড়ছে হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমানের দামোদর পাড়ে। মুণ্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ পাড়েও জারি হয়েছে সতর্কতা।
রোজই বৃ্ষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ছে। তার উপর মাইথন-পাঞ্চেত থেকে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে ডিভিসি। এই ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে শুরু করেছে নবান্ন। তাই পরিস্থিতি যে বন্যার দিকে যেতে পারে সেই আশঙ্কা করে ডিভিসি’র চেয়ারম্যানকে ফোন করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। জল ছাড়ার পরিমাণ কমানোর অনুরোধ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে চার জেলাকে সতর্ক থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কেন একসঙ্গে এত পরিমাণ জল ছাড়া হচ্ছে? প্রশ্ন করেন মুখ্যসচিব। ডিভিসি’র চেয়ারম্যান উত্তরে জানান, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টির জেরে জলাধারগুলিতে জল বেড়েছে। তাই জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
তাছাড়া জল ছাড়ার পরিমাণ যতটা সম্ভব কমাতে ডিভিসি’র চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেন মুখ্যসচিব। ডিভিসি’র জল ছাড়ার জেরে বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি এবং হাওড়া এই চার জেলার জেলাশাসককে সতর্ক করেছে নবান্ন। বৃহস্পতিবার থেকে দামোদরের নিম্ন অববাহিকার নিচু এলাকাগুলিতে জলস্তর বাড়তে পারে। তাই আগাম প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। এই এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরানোর ব্যবস্থা রাখতেও চার জেলার জেলাশাসকদের নির্দেশ দেন মুখ্যসচিব। এসডিআরএফ-সহ বিপর্যয় মোকাবিলা দলকেও প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। আর সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের নদীর জলস্তরের উপর প্রতিনিয়ত নজরদারি চালাতেও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব।