দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি এবং আর্খিক দুর্নীতির অভিযোগে জেল হেফাজতে আছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই আবহে ইন্দ্রনীলকে নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন এনসিপিআই সাংসদ। ওই পোস্টেই দাবি করেছেন, শুধু মন্ত্রী একা নয়, তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদেরও গ্রেপ্তার করা হোক। ক্ষমতার অপব্যবহার করে একাধিক কুকর্ম করেছেন ইন্দ্রনীল অভিযোগ উঠছে। এই আবহে এবার ইন্দ্রনীল সেন সম্পর্কে নাম না করে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন এনসিপিআই সাংসদ। যার নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিকে ইন্দ্রনীল গ্রেপ্তার হতেই নানা অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। হুগলির বাগানবাড়িতে নারীদের ভোগ করা থেকে শুরু করে নানা কথা এখন চর্চায় উঠে আসছে। আর সেটাকে কাজে লাগিয়েই সমাজমাধ্যমে কাকলি লিখলেন, ‘নারী নির্যাতন এবং খুনের মতোই নিন্দনীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মহিলাদের ভোগ করা। ধৃত মন্ত্রী একা নয়, সাঙ্গপাঙ্গদের জন্য কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানাই।’ তাহলে কি মন্ত্রী থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে মহিলাদের ভোগ করার ঘটনা ঘটেছে? কাকলির মন্তব্য থেকে এই অভিযোগও সামনে আসছে। যদিও এই দু’লাইনের বেশি কোনও কিছুই লেখেননি এনসিপিআই সাংসদ। যা নিয়ে জোর গুঞ্জনও শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে এই পোস্ট করার পরই বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন করেন কাকলিকে। যদিও তিনি কোথাও কারও নাম উল্লেখ করেননি। বরং কাকলি বলেছেন, ‘মহিলাদের পাশে থাকতে চাই। মহিলাদের সুরক্ষিত করতে চাই। মহিলাদের স্বার্থে তাঁদের শিক্ষিত করে স্বনির্ভর করার জন্য কাজ করে যেতে চাই। এই পরিস্থিতিতে যদি কখনও দেখা যায় গণধর্ষণ হচ্ছে, যেমন আরজি করে কী হল আজ পর্যন্ত তদন্ত মনে হয় শেষ হল না বলে দেখতে পাচ্ছি। তাই মহিলার উপর অত্যাচার নিন্দনীয়। শোনা যাচ্ছে, মহিলাদের কখনও কখনও বাড়িতে ডেকে নিয়ে যেতেন। কেউ কেউ বলছেন যে গানের বরাত পাইয়ে দেওয়ার জন্য ভোগ করা হতো। এটা তো অসম্ভব অন্যায়। শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।’
তাছাড়া ইন্দ্রনীলের গ্রেপ্তারের পর বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণের কথায়, ‘দিদির আশীর্বাদে ববি হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন, এরা সবাই নায়ক। অতি ক্ষমতাই দুর্নীতির আসল কারণ। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে একা দায়ী করলে হবে না। আরও অনেকে পরপর আছে। আমি মনে করি, একটা রাজনৈতিক দলের ৫ থেকে ১০ বছরের বেশি থাকা ক্ষমতায় উচিত নয়। কারণ অতি ক্ষমতাই দুর্নীতির মূল কারণ।’ আর সংবাদমাধ্যমে কাকলির খোঁচা, ‘আমি স্থানীয় মানুষের বক্তব্য দেখলাম। তাঁরা বলছেন যে, গাড়ি করে অনেক লোক আসত। গাড়ি করে কারা আসত? পুলিশের সেটা দায়িত্ব খুঁজে বের করা। স্থানীয় মানুষের কাছেও জানা যাবে। আর যাঁকে ধরেছে, তাঁর কাছ থেকেও জানা যাবে। ওপরের মদত না থাকলে কি এগুলো সম্ভব হয়? যখন রাস্তায় আন্দোলন করেছি তখন তাঁরা ছিলেন না। পরে মধু খেতে এসেছে।’