দেশজুড়ে এখন একটাই খবর, নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে বসে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একক ক্ষমতা এবং প্রভাব খাটিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। এই অভিযোগ উঠেছে কারণ বাকি যে দু’জন সদস্য আছেন তাঁদের কথা শোনাই হয়নি। এমনকী ১৪ বার নিষেধ করার পরও তাঁদের কথায় গুরুত্বই দেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ। এই খবর সামনে নিয়ে আসে সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এই খবর নিয়ে গোটা দেশ এখন তোলপাড়। এই আবহে বিদেশ থেকে চোখের চিকিৎসা করিয়ে শহরে ফিরেছেন মমতা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখান থেকেই তোপ দেগেছেন জ্ঞানেশ কুমারকে।
যে রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে তা থেকে জানা গিয়েছে, এসআইআরের পদ্ধতি নিয়ে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। এই গোটা বিষয়টি সামনে আসতেই তোপ দাগতে শুরু করেছেন বিরোধীরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন। বাংলার অভিশাপ লেগে গিয়েছে বলেও ধুয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমারকে। বুধবার বিজেপিকে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, ‘বাংলার অভিশাপ লেগে গিয়েছে। জোরজবরদস্তি করে বাংলা দখল করতে এসেছিল। সারা ভারতে বিজেপির অবস্থা করুণ। যাদের সাংবিধানিক পদে বসিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করেছে তাদের আগামী দিনে শ্রীঘরে থাকতে হবে। কেউ বাঁচবেন না। ভাববেন না যা ইচ্ছা তাই করব। জগৎকে নিজের মতো নাচাব। বিচারব্যবস্থা থেকে নির্বাচন কমিশন নিজের মতো কাজ করবে। যারা ভোট দিতে পারেনি তাদের চোখের জল অভিশাপ বৃথা যাবে না।’
ইতিমধ্যেই রাহুল গান্ধী, কপিল সিব্বাল, অরবিন্দ কেজরিওয়াল-সহ তামাম বিরোধীরা জ্ঞানেশ কুমারের মুণ্ডপাত করেছেন। গোটা দেশে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় কোণঠাসা নির্বাচন কমিশনারের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এদিন অভিষেকের তোপ, ‘প্রায় তিরিশ লক্ষ লোককে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। সেখানে বিচারপতিদের বক্তব্যতে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। বৃহত্তর বেঞ্চ বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নোটিস ইস্যু করা উচিত। অনেকের চিন্তা ছিল আমি বাইরে যাব আর ফিরব কি না। আমি কলকাতায় ফিরে এলাম। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নোটিশ ইস্যু করা উচিত। যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে। তাঁকে গ্রেপ্তার করা উচিত।’
শুধু এসআইআর নয়, জ্ঞানেশ কুমারের বহু সিদ্ধান্তে সহমত ছিলেন না দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী। তবে এই দাবি নস্যাৎ করেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও গোটা ঘটনার তদন্ত চেয়ে সরব হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। এই বিষয়ে অভিষেকের অভিযোগ, ‘বিজেপির হয়ে ভোটার লিস্টে চুরি করে নির্বাচন চুরি করেছে। আমি মনে করি ওঁকে গ্রেপ্তার করা উচিত। ওঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনা হয়েছিল। কোনও কারণ না দেখিয়ে ইমপিচমেন্ট রিজেক্ট করা হয়েছে। ভূভারতে স্বাধীনতার পর কোনও দিন হয়নি। তাঁকে নিয়োগ করার রুল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের জাজমেন্টকে মান্যতা না দিয়ে পার্লামেন্টে নতুন বিল এনে নতুন আইন আনা হয় যাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচন করতে পারে। যে প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়নে পদে বসবে সে তো প্রধানমন্ত্রী আর বিজেপি নেতার জন্যই কাজ করবে। বিড়াল ঝুলি থেকে বেরিয়ে পড়েছে। বাংলার অভিশাপ লেগে গিয়েছে। আমরা যা বলেছি অক্ষরে অক্ষরে মিলে গিয়েছে।’