এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে গিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার, সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি। তাঁদের মতামতের কোনও গুরুত্ব না দিয়েই একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এমনকী তাঁদের অন্ধকারে রেখে ভোটার তালিকায় নতুন নাম সংযোজন এবং বাদ দেওয়ার কাজ হয়েছে বলে দাবি দুই নির্বাচন কমিশনারের। এই খবর প্রকাশিত হয় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রে। তার পর থেকেই গোটা দেশে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এই আবহে বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের পুরনো কয়েকটি স্ক্রিনশট ফাঁস করে নির্বাচন কমিশনকে তুলোধনা করলেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া অন্তত ১৪টি নীতিগত সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি তুলে চিঠি দিয়েছিলেন বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু তাঁদের অন্ধকারে রেখে একতরফাভাবে নিজের ইচ্ছেমতো সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে গিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার বলে অভিযোগ। এদিন অভিষেক স্পষ্ট দাবি করেন, ‘বিরোধী কণ্ঠ স্তব্ধ করতে এবং একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারের নাম বেআইনিভাবে ছেঁটে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।’
This screenshot from a WhatsApp group of observers goes back to April. It raises serious questions about an alleged conspiracy to delete 30 lakh names from the electoral rolls.
This cannot be brushed aside. It cannot be buried. And it cannot be answered with silence.
Gyanesh… pic.twitter.com/JVDTDnlD3y
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) September 24, 2026
ইতিমধ্যেই বিরোধীরা জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি করেছেন। আবার ইনপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিরোধীরা। এদিন ককরোচ জনতা পার্টি সাংবাদিক বৈঠক করে নয়াদিল্লি থেকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে জ্ঞানেশ কুমারকে। না হলে আন্দোলনে নামবেন জেন-জিরা। সুতরাং প্রতি মুহূর্তে জ্ঞানেশ কুমারের পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। আর তখনই মমতা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সমাজমাধ্যমে লিখলেন, ‘পর্যবেক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের এই স্ক্রিনশটটি চলতি বছরের এপ্রিল মাসের। এটি ভোটার তালিকা থেকে ৩০ লক্ষ মানুষের নাম ছাঁটাইয়ের এক কথিত চক্রান্ত নিয়ে মারাত্মক সব প্রশ্ন সামনে তুলে আনছে।’
তাছাড়া ফাঁস হওয়া নথি সমাজমাধ্যমে শেয়ার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় লেখেন, ‘তথ্যগুলিকে কোনওভাবেই আড়াল করা বা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এমনকী ধামাচাপা দেওয়া যাবে না, অথবা নীরবতা পালন করে এর থেকে পার পাওয়া যাবে না। দেশের মানুষের সামনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভারতের প্রধান বিচারপতিকে আজ বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। ভারত সব দেখছে, ভারত প্রশ্ন তুলছে এবং ভারত নিশ্চিতভাবেই জবাব দাবি করবে।’