‘রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না’, চোরবাগান নিয়ে তোপ অভিষেকের

MP Abhishek Banerjee Photo-ANI

চোরবাগানে মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় পদপিষ্টের যে ঘটনা ঘটেছিল তারপর পেরিয়ে গিয়েছে ১২ দিন। ১৯ জনের মৃত্যুর তদন্তে কোনও স্বচ্ছতা পাওয়া গেল না বলে অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা, দলের জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ এবং দেবদীপ অধিকারীর ভূমিকা খতিয়ে দেখে তাঁদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার দাবি তুললেন তিনি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা হলে ভবিষ্যতে জবাবদিহি করতে হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিলেন সাংসদ। বৃহস্পতিবার এই ঘটনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্টও করলেন তিনি।

গতকালই প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আর তারপরই এভাবে ফুঁসে উঠলেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। চোরবাগান কাণ্ড নিয়ে বৃহস্পতিবার বড় পোস্ট করলেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। এত বড় বিপর্যয়ের পরেও আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে বলে প্রশ্ন তুললেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘চোরবাগানের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার ১২ দিন পেরিয়ে গেল। সাত বছরের এক নিষ্পাপ শিশু-সহ ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অথচ এত বড় বিপর্যয়ের পরেও তদন্তের স্বচ্ছতা এবং আয়োজকদের জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বিজেপির জেলা সভাপতি তমাঘ্ন ঘোষ এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দেবদীপ অধিকারীর নাম উঠে এসেছে। তাঁদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে? কেন এখনও তাঁদের গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি?’

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকলেই কি কেউ আইনের ঊর্ধ্বে? তদন্তে রাজনৈতিক প্রভাব বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে কিনা সেটা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। সাত বছরের এক শিশু-সহ ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও আপস করা চলবে না বলে দাবি তুলেছেন তিনি। অভিষেক লিখেছেন, ‘বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকলেই কি কেউ আইনের ঊর্ধ্বে চলে যান? রাজনৈতিক প্রভাব কি তদন্তের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে? সিটের কাছে আমাদের স্পষ্ট দাবি, তদন্ত হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং প্রভাবমুক্ত। কয়েকজন চুনোপুঁটিকে গ্রেপ্তার করে এতগুলো নিরীহ মানুষের মৃত্যুর দায় এড়ানো যাবে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা, প্রত্যেক স্তরের দায়িত্ব খতিয়ে দেখতে হবে।’


তাছাড়া বিজয় ওঝা, তমোঘ্ন ঘোষ এবং দেবদীপ অধিকারীর ভূমিকা অবিলম্বে তদন্তের আওতায় এনে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন মমতা তৃণমূলের সাংসদ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘বিজয় ওঝা, তমোঘ্ন ঘোষ এবং দেবদীপ অধিকারীর ভূমিকা অবিলম্বে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না। যাঁরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন, তাঁদেরও মনে রাখা উচিত, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, আর আইনের হাতও সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে থেমে যায় না। আজ তদন্তে গাফিলতি কিংবা প্রভাব খাটিয়ে কাউকে রক্ষা করার চেষ্টা হলে, আগামী দিনে সেই সিদ্ধান্তেরও জবাবদিহি করতে হবে ও জেলেও যেতে হবে। আজ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন, নইলে আগামী দিনে নিজেরাই আইনের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। ১৯টি প্রাণের বিচার চাই। কোনও রাজনৈতিক প্রভাব, কোনও ক্ষমতার দম্ভ, কোনও প্রভাবশালী পরিচয় যেন সত্যকে চাপা দিতে না পারে।’