সই জাল কাণ্ডে একমাসের রক্ষাকবচ, অভিষেককে বড় স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট

Calcutta High Court Photo-SNS

রাজ্য বিধানসভার সই জাল কাণ্ড নিয়ে মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। এবার এই  মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট বড় স্বস্তি দিল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। শুক্রবার এই কথা বলে অভিষেককে এক মাসের রক্ষাকবচ দিলেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। এই সই জাল কাণ্ড নিয়ে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিআইডি। এমনকী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এই মামলায় অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ পর্যন্ত করা হয়েছে। তারপরও বড় স্বস্তি পেলেন অভিষেক।

শুক্রবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আবেদন ঘিরে রাজ্য সরকারকে নোটিস দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে মামলার শুনানি ছিল। সেখানে বিচারপতি বলেন, আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। তার আগে এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর কে বিরোধী দলনেতা হবেন সেটা নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক বসেছিল। সেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। তারপর ৮০ জন বিধায়কের সই করার কথা ছিল। সেখানে যে সইগুলি করা হয় তাতে জালিয়াতি হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। আর তারপরই স্পিকারকে অভিযোগপত্র জমা দেন তাঁরা।

স্পিকার এই চিঠি পেয়ে ঘটনাটি নিয়ে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন। তারপর থেকে জল গড়াতে থাকে। ওই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল। তাই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয় এবং পরে পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করে। সিআইডি তদন্ত করতে গিয়ে বারবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তের স্বার্থে অভিষেককে নোটিসও পাঠানো হয়েছিল। এই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে আগেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। তখন আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিল। তবে এবার তিনি আরও একধাপ এগিয়ে মূল এফআইআরকেই বাতিল করার আবেদন জানিয়েছেন। এই আবহে বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানিয়ে দেন, একমাস তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না।


তাছাড়া বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে যখন বিতর্ক তৈরি হয়েছিল তখন বিধানসভার স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জয়ী বিধায়করা নতুন করে পৃথক একটি চিঠি জমা দেন। আর সেই চিঠির ভিত্তিতেই স্পিকার রথীন্দ্র বসু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। যদিও স্পিকারের এই সিদ্ধান্তও এখন আদালতে বিচারাধীন। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পৃথকভাবে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। বিচারপতি শম্পা সরকারের বেঞ্চ তাতে স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। সুতরাং একই ঘটনার জেরে একাধিক আইনি লড়াই এখন কলকাতা হাইকোর্টে চলছে।