‘দলবদল করতে না চাওয়ায় এমন হামলা?’ কুণালের উপর আক্রমণ নিয়ে তোপ অভিষেকের

Kunal Ghosh Car Attacked Abhishek X Post Photo-SNS

উত্তরপাড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় আক্রান্ত হন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ভাঙচুর করা হয়েছিল তাঁর গাড়ি। এবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্রেই রবিবার আবারও বিধায়কের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। বিধায়কের বাড়ির সামনে রিভলভার হাতে অনুসরণ করেন কয়েকজন। হাতুড়ি দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙা হয়। বাধ্য হয়ে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরাও বন্দুক বের করেন। নারকেলডাঙা থানায় অভিযোগ জানান কুণাল ঘোষ। এই ঘটনার খবর পেয়েই তোপ দাগলেন মমতা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবার কুণাল ঘোষের উপর যে আক্রমণ হয়েছে তা নিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হলেন অভিষেক। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে হামলা চালিয়েছে বিজেপির বাইক বাহিনী। এই হামলার ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছেন বিধায়ক। যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কুণাল ঘোষের উপর আক্রমণের কড়া নিন্দা জানিয়ে অভিষেক সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘১৮ ঘণ্টার কম সময়ের ব্যবধানে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপর বারবার এই ধরণের সশস্ত্র হামলা অত্যন্ত বিপজ্জনক।’

 


বেলেঘাটার বিধায়ককে প্রাণে মেরে ফেলার অভিযোগ নিজেই জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ। কুণালের কথায়, ‘ফুলবাগান থেকে নারকেলডাঙা পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তা জুড়ে চলে এই তাণ্ডব। আমাকে খুনের চরম চেষ্টা করা হয়। দুষ্কৃতীরা আচমকা এসে হাতুড়ি দিয়ে আমার গাড়ির কাচ ভেঙে ফেলে এবং কাচের ফাঁক দিয়ে আমার কলার ধরে ঝুলতে থাকে। অপর একজন মোটরবাইক থেকে সোজা রিভলবার বের করে তাক করেছিল। তবে আমার নিরাপত্তারক্ষী নিজের সার্ভিস রিভলবার উঁচিয়ে ধরতেই ওরা রাস্তা থেকে চম্পট দেয়।’ এই ঘটনার কথা শুনেই সমাজমাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, ‘দল পরিবর্তন করতে অস্বীকার করার অপরাধেই কি একজন জনপ্রতিনিধিকে এমন সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের নিশানা হতে হচ্ছে? যদি একজন নির্বাচিত বিধায়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটা ভঙ্গুর হয় তাহলে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা তো স্বাভাবিক।’

এখানেই থেমে থাকেননি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এই ঘটনা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আরএন রবিকে অবিলম্বে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আর একইসঙ্গে বিজেপি তোপ দেগে অভিষেক লেখেন, ‘যদি বিজেপি বিশ্বাস করে যে তারা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে জয়ী হয়েছে, তবে যারা দলবদল করতে রাজি হচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে এমন ভয় দেখানো এবং ভয়ঙ্কর নীতি প্রয়োগ করছে কেন?’