সন্দেশখালির পর সুন্দরবন, জঙ্গি হামলার মোকাবিলায় এনএসজি-সহ একাধিক বাহিনীর মহড়া

NSG Mock Drill Photo-ANI

চারপাশ ঘিরে ফেলেছে নিরাপত্তাবাহিনী। চলছে কড়া নজরদারি। ভবনের ভিতরে শুরু হয়েছে অভিযান। ‘বন্দি’দের উদ্ধার করতে তৎপর জওয়ানরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এলেন তাঁরা। সুন্দরবনের এমনই দৃশ্য দেখে কার্যত হতবাক স্থানীয়রা।

তবে কোনও জঙ্গি হামলা নয়। কোনও সন্ত্রাসী ঘটনাও ঘটেনি। সম্ভাব্য এমন পরিস্থিতিতে কী ভাবে দ্রুত অভিযান চালানো হবে, কী ভাবে ‘বন্দি’ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হবে, তা ঝালিয়ে নিতেই এই মহড়া।

রবিবার সুন্দরবনে যৌথ মকড্রিল চালাল জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনী বা এনএসজি, রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ, স্টেট র্যা পিড অ্যাকশন ফোর্স, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ। মহড়ায় মূলত বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং দ্রুত অভিযানের প্রস্তুতিই যাচাই করা হয়।


মহড়ার অংশ হিসেবে একটি ভবন ঘিরে ফেলে শুরু হয় অভিযান। হামলাকারীরা ভবনের ভিতরে স্থানীয় বাসিন্দা বা পর্যটকদের আটকে রাখলে কী ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে, কী ভাবে নিরাপদে তাঁদের উদ্ধার করা হবে, তারই অনুশীলন চলে। ভবনের ভিতরে প্রবেশ, এলাকা সুরক্ষিত করা, ‘বন্দি’দের উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া দেখানো হয়।

কেন সুন্দরবনে এই মহড়া? আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে সুন্দরবনের গুরুত্ব আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া। ফলে কোনও দিন যদি এই এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা বা জঙ্গি কার্যকলাপের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে বিভিন্ন বাহিনী কী ভাবে দ্রুত একসঙ্গে কাজ করবে, সেই প্রস্তুতি যাচাই করাই ছিল মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিশেষ করে কোনও বাড়ি বা ভবনের ভিতরে পর্যটক কিংবা স্থানীয়দের কিডন্যাপ করে রাখার মতো পরিস্থিতিতে কী ভাবে অভিযান চালানো হবে, কী ভাবে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রেখে হামলাকারীদের মোকাবিলা করা হবে তারই মহড়া হয়।

শুধু অভিযান চালানো নয়, বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে কে কোন দায়িত্ব নেবে, কী ভাবে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান হবে এবং কী ভাবে যৌথ ভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে, মহড়ার মাধ্যমে সেই প্রস্তুতিও যাচাই করা হয়।

উল্লেখ্য, শনিবারই সন্দেশখালিতে মহড়া চালিয়েছিল এনএসজি। জেলবন্দি প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের এলাকায় এক দিনের ব্যবধানে সুন্দরবনেও এনএসজির মহড়া ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গত কয়েক দিনে রাজ্যে পাকিস্তানি গুপ্তচর সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই আবহে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দিকেই নজর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তারই মধ্যে সন্দেশখালির পর সুন্দরবনে এনএসজি-সহ একাধিক নিরাপত্তা বাহিনীর এই যৌথ মহড়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।