‘আমি যা বলার ইডিকে বলব’, মেজাজ সপ্তমে করে জবাব দিলেন মদন মিত্র

MLA Madan Mitra Photo-SNS

বিধাননগরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দপ্তরে হাজির হয়ে মেজাজ দেখালেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্র। পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে তলব করেছে ইডি। এই মামলায় ইডি স্ক্যানারে গোটা মিত্র পরিবার রয়েছে। তাই স্ত্রী-পুত্রদের পর বুধবার ইডি দপ্তরে হাজির হন কামারহাটির বিধায়ক। তবে তাঁর পরনে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি, চোখে সানগ্লাস। বুধবার বেলা ১১টা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হয়ে সোজা পৌঁছে যান সিজিও কমপ্লেক্সে। সেখানে তাঁকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মেজাজ সপ্তমে চড়িয়ে মদন মিত্র অভিযোগ করেন, সাংবাদিকরাই তাঁকে ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না।

এদিন ইডি সূত্রে খবর, কামারহাটি পুরসভায় গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চাকরি দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই অর্থের একটি অংশ মদন মিত্র এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নানা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মদন বলেন, ‘তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব। যা নথি আনতে বলেছে, সব এনেছি। আমি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। ইডি যাকে মনে করবে, ডাকতে পারে।’

এই আর্থিক লেনদেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে এদিন মদন মিত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। তদন্তে অর্থের উৎস, লেনদেনের বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে খবর। গাড়ি থেকে পা মাটিতে রেখেই তাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। তখন কামারহাটির বিধায়কের মন্তব্য, ‘আমি যা বলার ইডিকে বলব। যদি আপনারা আমায় যেতে না দেন, আর আমার যদি দেরি হয় তাহলে আমি বলব আপনাদের জন্য যেতে পারিনি।’ এভাবেই মেজাজ হারিয়ে কথা বলে চলে যান তিনি।


তাছাড়া কামারহাটি পৌরসভায় অবৈধ নিয়োগ মামলায় নাম জড়ায় মদনের। জুন মাসেই তাঁর একাধিক বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। ভবানীপুরের বাড়ি ছাড়াও দক্ষিণেশ্বর-সহ একাধিক বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। উদ্ধার হয় বেশ কিছু নথিপত্রও। এনফোস্টমেন্ট ডিরেক্টরেটের নোটিস পাওয়ার পরেই মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে হাত মেলান মদন মিত্র। এই নিয়ে বিতর্ক হতেই মদন জানিয়েছিলেন, ইডির থেকে এবি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) বেশি ভয়ের। তদন্তে সবরকম সাহায্যের বার্তা দেন তিনি। তবে এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘প্রশংসা অথবা নিন্দায় কিছু যায় আসে না। যে যা কর্ম করেছে, তাঁকে তার ফল ভোগ করতেই হবে। যদি উনি কোনও অন্যায় না করে থাকেন তাহলে ভয়ের কোনও কারণ নেই।’