পার্থ-ববি-অরূপ-অতীনকে পিছনে ফেলে দিলেন কুণাল-শোভনদেব, দুর্গাপুজোয় টানটান লড়াই

Durga Puja 2026 Photo-SNS

গত ১৫ বছরে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীদের আধিপত্য দেখা যেত। কিন্তু বদলের পশ্চিমবঙ্গে সেসব এখন অতীত। বরং সেইসব নেতা-মন্ত্রীদের আর ওইসব বিগ বাজেটের দুর্গাপুজোর ধারে-কাছে দেখা যাচ্ছে না। চেতলা অগ্রণী ববির পুজো। সুরুচি সংঘ অরূপ বিশ্বাসের। নাকতলা উদয়ন সংঘ পার্থর। শ্রীভূমি সুজিত বসুর। হাতিবাগান সর্বজনীন অতীন ঘোষের। রাজডাঙ্গা নব উদয় সংঘ স্বরূপ ঘোষের এসবই শোনা যেত। বলা হল, উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার একাধিক বিগ বাজেটের সেরা পুজোগুলি এভাবেই পরিচিত ছিল। তৃণমূল নেতার নামের দুর্গাপুজো হিসেবেই সবাই জানতেন। এখন তাঁরা কোথায়? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এখন পরিস্থিতিতে বদল ঘটেছে। পার্থক্যে যাবতীয় কিছুর পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গত বেশ কিছু বছর ধরে তৃণমূলের যে সমস্ত নেতারা প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন এখন তাঁরাই দুর্গাপুজোর আবহ থেকে কয়েক যোজন দূরে রয়েছেন। কলকাতার সেরা পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল লেকটাউনের শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজো। এখন সুজিত জেলবন্দি। এবার শ্রীভূমির দুর্গাপুজোর দায়িত্ব নিয়েছেন বিজেপি নেতা কনক দেবনাথ। আগে কংগ্রেসে ছিলেন। পরে বিজেপিতে যোগ দেন। উত্তর কলকাতার আর একটা সেরা দুর্গাপুজো হাতিবাগান সর্বজনীন। এটার সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ। এখন তাঁকে সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।

অতীন ঘোষ ঝোলে-ঝালে-অম্বলে সবেতেই আছেন বলে খবর। মমতা তৃণমূল নাকি ঋতব্রত গোষ্ঠী কোনদিকে আছেন সেটা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এই আবহে অতীন ঘোষ অনেকটা দূরত্ব বজায় রেখেছেন। চেতলা অগ্রণীর দুর্গাপুজোয় দেখা গেল না কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়রকে। সুরুচি সংঘেও দেখা গেল না অরূপ বিশ্বাসকে। সুরুচি সংঘের দুর্গাপুজো আয়োজনের এখন প্রধান উদ্যোক্তা বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার। নাকতলা উদয়ন সংঘের দুর্গাপুজোর প্রধান উপদেষ্টা এখন বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বের হতেই দেখা যায়নি। সুতরাং এইসব নেতাদের এখন কোনও অস্তিত্বই নেই দুর্গাপুজোগুলির সঙ্গে।


তাছাড়া রাজডাঙা নব উদয় সংঘ একদা তৃণমূল নেতা সুশান্ত ঘোষের পুজো হিসেবেই পরিচিত ছিল। এবার এই পুজো বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এই আবহে দু’জন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কিন্তু স্বমহিমায় রয়েছেন। এক, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। দুই, বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কুণাল ঘোষ সুকিয়া স্ট্রিটের রামমোহন সম্মিলনীর দুর্গাপুজোয় জড়িয়ে আছেন এখনও। রামমোহন সম্মিলনীর থিম এই বছর ‘উত্তম একাই ১০০’। নিজের পাড়া, নিজের এলাকা, নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের দুর্গাপুজোগুলিতে স্বমহিমায় দেখা যাচ্ছে কুণাল ঘোষকে। আর বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় হাজরা পার্ক থেকে আদি বালিগঞ্জ সর্বজনীন, বহু দুর্গাপুজোয় আগের মতোই স্বমহিমায় দেখা যাচ্ছে। এভাবেই পার্থ-ববি-অরূপ-অতীনকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেলেন কুণাল-শোভনদেব।