ডেঙ্গি নির্মূলে ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ শুরু করলেন পুরমন্ত্রী, কেমন করে হচ্ছে কাজ?

Minister Agnimitra Paul Photo-SNS

বর্ষাকালে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ে। এখন প্রায় রোজই বৃষ্টি হচ্ছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে এবং গ্রামবাংলায়। সেখানে জল জমছে বলে অভিযোগ। আর জমা জল থেকেই ডেঙ্গির মশার উৎপত্তি। এখন আবার বেশিরভাগ পুরসভা ভেঙে গিয়েছে। তাই নাগরিক পরিষেবা সঠিকভাবে পৌঁছচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই আবহে নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে ডেঙ্গি নির্মূলে ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ শুরু করল কলকাতা পুরসভা এবং মেট্রো রেল। এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন থেকে শুরু হয়েছে যৌথ অভিযান। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ অভিযান। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে এবং মেট্রোর পিসিএমও ড. রীনা মুখোপাধ্যায়ের যৌথ নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এই বিশেষ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

কিছুদিন ধরেই মন্ত্রী শহরের রাস্তাঘাট, ফুটপাত, বাজার এলাকা এবং শহরের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সবাইকে সচেতন করছেন। বেআইনি কাজ দেখলে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সেখানে এখন এই বৃষ্টি-বাদলের সময় ডেঙ্গি যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিলেন পুরমন্ত্রী। গোটা রাজ্যের পুরমন্ত্রী হওয়ায় তাঁর দায়িত্বও বেশি। তাই জেলাগুলির সঙ্গে যেমন বৈঠক করছেন তেমন শহরের রাজপথে চষে বেড়াচ্ছেন। কলকাতা পুরসভার সঙ্গে এই বিষয়ে তিনি কথাও বলেছেন। তারপরই শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে ডেঙ্গি নির্মূল করা সম্ভব নয়। আর ফুটপাতে চলাচল করার জন্য ব্যবসায়ীদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ জায়গা খালি রাখতে হবে।’

এই ডেঙ্গি নির্মূল করতে একটা পরিকল্পনাও করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের সমস্ত মেট্রো স্টেশন এবং সংলগ্ন এলাকায় জোরদার পরিদর্শন করা হবে। কেমন পরিস্থিতি সেখানে রয়েছে তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে। সেই মতো ব্যবস্থা করা হবে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের একাধিক স্টেশন এবং ট্রেনের কারশেড এলাকায়ও ঘুরে দেখা হবে। কারণ এইসব জায়গায় বৃষ্টির জল জমা হয়ে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। রেল আবাসন এলাকাগুলিতেও ঘুরে দেখে পদক্ষেপ করা হবে। সমস্ত পরিত্যক্ত জমি বা ঝোপঝাড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জল জমে থাকা নিয়ে জমির মালিকদের কাছে নোটিস যাচ্ছে এবং যাবে। কলকাতা পুরসভার ধারা ৪৯৬ অনুযায়ী, এই নোটিস দেওয়া হবে। নিষিদ্ধ প্লাস্টিক বা নোংরা যেখানে-সেখানে ফেললে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। যত্রতত্র থুথু বা নোংরা ফেললে শুধু জরিমানাতে বিষয়টি থেমে থাকবে না। অপরাধীকে দিয়ে সেই জায়গা পরিষ্কার করিয়ে ওই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।


তাছাড়া শুধু বর্ষাকালে অভিযান হবে এমন নয়। আগামী দিনেও এই বিশেষ অভিযান চলবে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, সেচদপ্তর, পূর্তদপ্তরের মতো অন্যান্য সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে রাজ্যজুড়ে এই অভিযান চালানো হবে। এই বিষয়ে পুরও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘এটা শুধু রাজ্য সরকারের একার লড়াই নয়, এটাকে গণআন্দোলনে পরিণত করতে হবে। সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে ডেঙ্গি নির্মূল করা সম্ভব নয়। বাড়ির টবে জল জমতে দেওয়া যাবে না। জলের ট্যাঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান চালানো হবে।’