রবিবাসরীয় ছুটির দিনে ল্যান্সডাউন বাজারে রণংদেহী মেজাজে দেখা গেল অগ্নিমিত্রা পালকে। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীকে সকাল থেকেই অ্যাকশন মোডে দেখা গেল। শহরের অলি-গলিতে পরিদর্শন করে পৌঁছে যান ল্যান্সডাউন বাজারে। আর সেখানের পরিস্থিতি দেখে দু’দিনের সময়সীমা বেঁধে দিলেন তিনি। কীসের এই সময়সীমা? সময়সীমা দেওয়া হয়েছে ফুটপাথ খালি করার। ল্যান্সডাউন বাজারের বড় সমস্যা হলো-ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রবিবার সকালেই মার্কেটে পৌঁছন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভবানীপুর থানা এবং কলকাতা পুরসভার উচ্চপদস্থ অফিসাররাও। ফুটপাত দখলকারী হকার এবং ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী। অগ্নিমিত্রা সাফ ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেন, ফুটপাত দখল করে আর ব্যবসা চালানো যাবে না।
এদিকে সরকারে আসার পরই রাস্তা ও ফুটপাতের জবরদখল হঠাতে চলছে লাগাতার অভিযান। দফায় দফায় সব বাজারগুলিতে সারপ্রাইজ ভিজিট করে ব্যবসায়ীদের ধমক দিতেও দেখা গিয়েছিল পুরমন্ত্রীকে। রবিবার সেরকমই ল্যান্সডাউন এলাকার বাজার পরিদর্শনে এসে অগ্নিমিত্রা পাল সেখানে ফুটপাথ তো বটেই, রাস্তার পাশের অনেকখানি জায়গা দখলে চলে গিয়েছে ব্যবসায়ীদের। আর এটা দেখেই মেজাজ হারান পুরমন্ত্রী। তখনই দু’দিনের মধ্যে রাস্তা খালি করার সময়সীমা দেন তিনি। ব্যবসায়ীদের সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার সময় দিলাম। আপনার উপরেই আমি ডিপেন্ড করছি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি এগুলি না সরানো হয়, থানা থেকে এসে ছোট হাতি এনে সমস্ত জিনিসপত্র তুলে থানাতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে আপনার মালও যাবে, জিনিসপত্র যাবে, সব যাবে। রাস্তাটা কিন্তু সংসার পাতার জায়গা নয়।’
অন্যদিকে দোকানিদের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী। কিন্তু বাজারের ঘিঞ্জি অবস্থা, ফুটপাথ দখল করে বাজার, মানুষের চলাচলে অসুবিধা, অপরিষ্কার হয়ে থাকা এবং যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা দেখে রেগে যান পুরমন্ত্রী। তিনি দু’দিন সময় দেন দোকানিদের ফুটপাথ ছেড়ে দেওয়ার জন্য। অগ্নিমিত্রার সাফ কথা, ‘ফুটপাথের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ছেড়ে দিতে হবে। ল্যান্সডাউন বাজার বড় করে তৈরি হবে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে বাজার তৈরির কাজ। ডিডি সাহেব, থানা থেকে কে এসেছেন? থানার বড়বাবু কোথায়? আপনি এখানে থাকুন। ২৪ ঘণ্টার সময় দিলাম। আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে যেন আমার এই পুরো ফুটপাত খালি থাকে। ফুটপাত খালি থাকবে, ফুটপাত দিয়ে মানুষ হাঁটবে। আপনি এত বড় জায়গাজুড়ে ফলের ক্রেট সাজিয়ে রাখলে, মানুষ হাঁটবে কোথা থেকে?’
তাছাড়া বাজারের ভিতরে একের পর এক মাছ-মাংস-ফলের দোকানে ঢুকে সকলকে জায়গা খালি করতে দুদিনের সময়সীমা বেঁধে দেন পুরমন্ত্রী। আর বাজারে একটি সবজির দোকানে ঢুকতেই ‘অগ্নিশর্মা’ হয়ে ওঠেন অগ্নিমিত্রা। সেখানে গিয়েই তিনি দেখেন, বড় জায়গা নিয়ে সবজির পসরা সাজিয়ে বসেছেন এক ব্যবসায়ী। রবিবারের বাজারে বিক্রি-বাটাও করা হচ্ছে। ঠিক তখনই পুরমন্ত্রী সেখানে পৌঁছতেই ভ্যাবাচাকা খেয়ে যান ব্যবসায়ীরা। তখনই এমন অবস্থা দেখে অগ্নিমিত্রা পাল কড়া ভাষায় বলেন, ‘ফুটপাতটা তোমার নয়, ফুটপাতটা পাবলিকের। বুঝেছো? এটা ভুলে যেও না। আমি কালকে এই সময়ই আবার আসব। তার মধ্যে কিন্তু সব এখানে সরিয়ে দেওয়া চাই। কোনও স্টক থাকবে না। রাস্তার ওপরে এরা বসবে না। রাস্তার ওপর অ্যালাউড হবে না। অন্য জায়গায় দেখুন। রাজ্য সামলানোর দায়িত্ব কি একা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর? আপনাদের দায়িত্ব নেই! আপনি কার অনুমতিতে ফুটপাথে দোকান বসিয়ে ছাউনি দিয়েছেন? কাকে টাকা দিয়েছেন? ১৫ বছর ধরে আপনাকে কেউ বারণ করল না? খাট-বিছানা আছে, ত্রিপল টাঙানো, এটা সংসার পাতার জায়গা নয়। সংসার পাততে হয়, দোকান কিনুন। অসুবিধা নেই, আমরা দোকান দিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু ফুটপাথ দখল করে এটা করা যাবে না। আপনি এগুলি খুলে নিন। ফুটপাথ দিয়ে লোক যাবে। তারপর যেটুকু জায়গা বাঁচবে, তাতে দোকান করুন।’