নবমীর সকালেই অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত একের পর এক দোকান, বাঘাযতীনে বিষাদের সুর

Baghajatin Fire Photo-SNS

মহানবমীর সকালটাও ভাল গেল না রাজ্যের। দুর্গাপুজোর মাঝেই আবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল খাস কলকাতায়। আর এই আগুনের লেলিহান শিখায় একের পর এক দোকান ভস্মীভূত হয়ে গেল। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে হাজির দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার বাঘাযতীন বাজারে বিধ্বংসী আগুন লেগে মুহূর্তের মধ্যে ভস্মীভূত হয়ে গেল প্রায় ৪০টির বেশি দোকান। দমকল বাহিনীর দীর্ঘ তিন ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। জনবহুল বাজারে এই হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্গাপুজোর মরশুমে এতগুলি দোকান ভস্মীভূত হওয়ায় বড় ক্ষতি হয়েছে ব্যবসায়ীদের। দোকানে থাকা সমস্ত জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁরা। এত বড় ক্ষতিতে রাজ্য সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের কাতর আবেদন, কিছু আর্থিক সাহায্য করা হোক যাতে আবারর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়। কীভাবে এত বড় আগুন লাগল সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সবদিক খতিয়ে দেখছে দমকল। স্থানীয় সূত্রে খবর, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রথম ঘটে একটি বাতাসা তৈরির দোকানে। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পরপর দোকানে। তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় দমকলে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার জেরে নবমীর সকালে গড়িয়া এবং যাদবপুরের মধ্যে সংযোগকারী রাজা এসসি মল্লিক রোডে যান চলাচল ব্যাহত হয় অল্প সময়ের জন্য।

তবে এখানে হতাহতের কোনও খবর মেলেনি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, নবমী অর্থাৎ মঙ্গলবার সাতসকালে বাঘাযতীন বাজারে আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নেতাজিনগর থানার পুলিশ। দ্রুত খবর পাঠানো হয় দমকল দপ্তরে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় একে একে দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন সেখানে মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বাঘাযতীনের এই বাজার বেশ পুরনো এবং বড়। ছোট-বড় বহু বিক্রেতা এখানে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করেন। ওই বাজারেই আচমকা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন মাথায় হাত পড়েছে ব্যবসায়ীদের। তবে সবদিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


তাছাড়া এক মহিলা বিক্রেতা জানান, দুর্গাপুজো মিটলেই লক্ষ্মীপুজো। তাই দোকানে লক্ষ্মীঠাকুরের মূর্তি রাখা ছিল বিক্রি করার জন্য। কিন্তু সব মূর্তিই পুড়ে গিয়েছে। এমনকী পুজোর যাবতীয় সরঞ্জামও ভস্মীভূত। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ভয়াবহ আগুন লাগে। সেখানে প্রচুর দশকর্মার দোকান ছিল। সামনেই লক্ষ্মীপুজো। তাই প্রচুর সামগ্রী মজুত ছিল। আগুন দ্রুত বিধ্বংসী রূপ নেয়। দোকানের সমস্ত পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিজেদের দোকানের এই অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকেই। সকলের একটাই বক্তব্য, উৎসবের মরশুমে বাড়তি লাভের আশায় বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সর্বগ্রাসী আগুন সব কেড়ে নিল।