বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে হামলা নিয়ে সরব মমতা, আইনজীবীর সঙ্গেও দেখা করবেন

Bikash Ranjan Bhattacharya-Mamata Banerjee Photo-ANI

বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট ছোঁডা হয় বলে অভিযোগ। এমনকী মদের বোতল ছুঁড়ে জানালার কাচ ভাঙা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই হামলার পাশাপাশি হুমকি এবং গালিগালাজ করা হয় বলেও অভিযোগ সিপিএম নেতার। এই ঘটনায় এবার গর্জে উঠলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তিনি সমাজমাধ্যমে সরব হওয়ার পাশাপাশি সৌজন্য দেখালেন। পাল্টা স্বাগত জানালেন বিকাশও।

এদিকে একদা বিকাশরঞ্জনের সঙ্গে মমতার সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছিল। যুযুধান দু’পক্ষ একে অপরকে আক্রমণও করতেন। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই বিবাদ এখন অতীত। আর তাই সিপিএম নেতার বাড়িতে হামলার পরই সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী নয়াদিল্লি থেকে ফিরে তাঁর সঙ্গে দেখা করে আসবেন বাড়ি গিয়ে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই ঘটনার পর বিকাশবাবু সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ভোর ৫টা নাগাদ ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা’ তাঁর পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকার বাড়িতে হামলা চালায়। মোটরবাইকে চেপে এসে বাড়ির কাচের জানালা লক্ষ্য করে মদের বোতল ছুঁড়তে থাকে কয়েকজন। আর বিকাশরঞ্জনের উদ্দেশে অশ্রাব্য গালিগালাজ করতে থাকে তারা। এই হামলা থেকে তাঁর বাড়ির পরিচারিকা অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। মোটরবাইকের নম্বর প্লেট কালো কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। তাই কাউকে চেনা সম্ভব হয়নি।

 


অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমে এই কথা শুনেই সমাজমাধ্যমে গর্জে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তীব্র নিন্দা করে মমতা লিখলেন, বারুইপুর, ব্যাঙ্কশাল আদালত বা চন্দননগর এবং শালবনির পর এবার কলকাতায় বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাসভবনে হামলার ঘটনা। ভিডিও ফুটেজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ-প্রশাসন ও আইনের প্রতি দুষ্কৃতীদের যে বিন্দুমাত্র ভয় বা তোয়াক্কা নেই সেটা এই ঘটনা তার স্পষ্ট প্রমাণ। আর সিপিএম নেতা বলেন, ‘হঠাৎ করে বাড়ি লক্ষ্য করে একের পর এক ইট ছুঁড়তে থাকে দুষ্কৃতীরা। ভেঙে দেওয়া হয় বাড়ির জানালার কাচ। একেবারে পরিকল্পনা করে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে এই ঘটনা ঘটিয়ে আমাকে ভয় দেখানো যাবে না।’

তাছাড়া কদিন আগেই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি চিঠি লেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তারপর উভয়পক্ষের মধ্যে টেলিফোনে কথাও হয়। এখন ইন্ডিয়া জোটকে সামনে রেখে তাঁরা বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইছেন। সেখানে এই হামলার ঘটনা হওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘এটা সত্যি যে গত ১৫ বছরে বিকাশদা এবং আমাদের অবস্থান অনেক সময়েই আদর্শগত ও আইনি দিক থেকে বিপরীত মেরুতে ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সৌজন্যের সীমা কোনও দিন লঙ্ঘিত হয়নি। সংসদ থেকে শুরু করে বিধানসভা, পুরসভা থেকে আদালত সর্বত্রই বিরুদ্ধ কণ্ঠস্বর বা বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চক্রান্ত চলছে। নিজে একজন আইনজীবী হিসেবে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ এই কথা শুনে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘খুব ভাল কথা। যে কোনও শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষেরই গর্জে ওঠা উচিত।’