তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাখিবন্ধন, সম্প্রীতির বার্তা মমতার

Mamata Banerjee Photo-SNS

ভাঙা দলের ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিল কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে যে অক্সিজেন পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেটাই এবার সামনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাই সেদিন রাখিবন্ধন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ আগস্ট তৃণমূল ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচিকে সম্প্রীতি দিবস হিসাবে পালন করার ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই থাকবেন প্রধান বক্তা হিসাবে। প্রত্যেকবারই তিনি থাকেন। নয়াদিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দলের ছাত্র সংগঠনকে আগামী দিনে প্রয়োজনে বড় আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তাই দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী।

মেয়ো রোডের গান্ধীমূর্তির পাদদেশে এই সমাবেশ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সে অনুমতি না পেলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন তাঁরা বলে সূত্রের খবর। তবে এই সমাবেশ করা নিয়ে ইতিমধ্যেই বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকেই রাখিবন্ধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী দিনটি যাতে সম্প্রীতি দিবস হিসাবে পালন করা হয় সেই নির্দেশও দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যাতে তা পালন করা হয় সে কথাই বৈঠকে বলেছেন তিনি।

এখন তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। দলের সাংসদ, বিধায়করা ছেড়ে চলে গিয়েছে। বহু নেতা দল ছেড়ে চলে গিয়েছে। রয়ে গিয়েছে শুধুমাত্র কর্মীরা। যা দেখা গিয়েছিল একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে। কিছু সাংসদ-বিধায়ক আছেন। যা সংখ্যায় অত্যন্ত কম। একদিন আগেই ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচি নিয়ে তপসিয়ার তৃণমূল ভবনে প্রস্তুতি বৈঠক হয়েছে। সেখানে টেলিফোনে সেখানকার ছাত্র-যুবদের বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলনেত্রী জানান, এই কর্মসূচির জন্য প্রত্যেকবারের মতো মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সভা করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।


তাছাড়া এই সমাবেশ করার অনুমতি পেতে সমস্যা হতে পারে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। তাই এখন থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে বলে নির্দেশ দেন তিনি। এদিন ছাত্র-যুবদের প্রশংসা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যেভাবে ২১ জুলাই কর্মসূচি হয়েছে সেটা দলের ছাত্র-যুবদের জন্যই সম্ভব হয়েছে। ২৮ আগস্ট দলের ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসকে সম্প্রীতি দিবস হিসাবে পালন করা হবে। সকলে সকলকে রাখী পরাবেন। কেন্দ্রীয় সরকার ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের সামনে মাথা ঝুঁকিয়েছে। দরকারে আমাদের ছাত্রছাত্রীদেরও আন্দোলনে নামতে হবে আগামী দিনে।’