‘বিজয়া দশমীতে মিষ্টিমুখ নয়’, চোরবাগানে মৃত্যুমিছিলের জেরে কর্মীদের নির্দেশ মমতার

Mamata Banerjee Photo-SNS

ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বিজয়া দশমী পালন করতেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার ক্ষমতায় আসার পরও তা অব্যাহত ছিল। বরং বহর ক্রমাগত বেড়েছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হয়েছে। দল ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। কিন্তু নেতারা সুযোগ বুঝে কেটে পড়লেও কর্মীরা থেকে গিয়েছেন। বিজেপি সরকারের রাজত্বে রাজ্যে প্রথম দুর্গোৎসবে চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজোয় ১৯ জন পদপিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন। তা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড় হয়েছে। এই আবহে প্রথমবার বিজয়া দশমী পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে সূত্রের খবর।

এদিকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি সেটা কর্মীদেরও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। থাই কালীঘাটের বাড়িতে এবার আর ভিড় দেখা যাবে না। কর্মীরা আসতেই পারেন, কিন্তু কোনও অনুষ্ঠান হবে না। মিষ্টিমুখও হবে না। নেত্রী নিজেই তাতে ‘না’ করেছেন। এই মৃত্যুমিছিলের ক্ষত বুকে নিয়েই এবার আর কোনও সেলিব্রেশন করা হচ্ছে না মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে। ২০২৫ সালেও এই ছবি দেখা যায়নি। বরং বড় করে বিজয়া দশমী পালিত হয়েছিল। সেখানে চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন নাগরিক। সেই জন্য এবার বিজয়া দশমীর কোনও অনুষ্ঠান হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন দলনেত্রী বলে সূত্রের খবর।

অন্যদিকে নেতা-কর্মীরা কালীঘাটের বাড়িতে আসতে পারবেন বলে জানা গিয়েছে। দেখা করতে পারবেন নেত্রীর সঙ্গে। জানাতে পারবেন এলাকার প্রকৃত অবস্থা কেমন এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বার্তা নিয়ে ফিরে যেতে পারবেন। কিন্তু বিজয়া দশমী উপলক্ষ্যে কোনও অনুষ্ঠান এবার রাখা হচ্ছে না। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, ‘বিজয়া দশমীতে মিষ্টিমুখ নয়’। সুতরাং মিষ্টি নিয়ে আসার কোনও প্রয়োজন নেই। নেত্রীও এবার কাউকে মিষ্টিমুখ করাবেন না। বরং শুধু সৌজন্য বিনিময় হবে। রাজ্যস্তর থেকে এই বার্তা প্রত্যেক জেলায় পৌঁছে গিয়েছে। যে ঘটনা এবার দুর্গাপুজোয় ঘটেছে তার জেরেই দুঃখিত হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো বলে সূত্রের খবর।


তাছাড়া প্রত্যেক বছর বিজয়ার পর প্রায় ১৫ দিন জনসংযোগ কর্মসূচি থাকত তৃণমূল কংগ্রেসের। কালীঘাট থেকে শুরু করে জেলায় দলের পার্টি অফিসগুলি এবং পাড়ায় পাড়ায় বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় চলত। খাওয়া-দাওয়াও হতো। কিন্তু এবার আর সেসব হচ্ছে না। ‘বিজয়া দশমীতে মিষ্টিমুখ নয়’। দলের কর্মীদের প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট নির্দেশ, সবাই আসুন, শুভেচ্ছা জানান। কিন্তু ‘কোনও মিষ্টিমুখ হবে না।’ এই বছরের বিজয়া দশমীতে মোটেই হইচই করে পালন করার মতো পরিবেশ নেই বলে মনে করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই কালীঘাটে বিজয়া সেলিব্রেশন হচ্ছে না বলেই সূত্রের খবর।