ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে হামলার ঘটনার পর ফুঁসে উঠলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে এসে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন দলনেত্রী। একইসঙ্গে বিজেপি সরকার এবং রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে একযোগে তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সরাসরি রণংদেহী মেজাজে আক্রমণ করে তৃণমূল সুপ্রিমো দাবি করেন, গেরুয়া শিবির নিজেদের ভিতরের রাজনৈতিক পরিকাঠামো নিজেরাই ধূলিসাৎ করছে এবং তার ফলে তাদের পায়ের তলার মাটি দ্রুত আলগা হয়ে পড়ছে। মমতার অভিযোগ, বিজেপি গুন্ডা পাঠিয়ে দলের দপ্তর তছনছ করেছে। জিনিসপত্র লুট করেছে সেখান থেকে। অত্যাচার বন্ধ না হলে আগামী দিনে দিল্লি গিয়ে ধর্নায় বসার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
এদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখন নয়াদিল্লিতে আছেন। তার মধ্যে তাঁর অফিসে হামলা এবং লুঠপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সমাজমাধ্যমে ক্যামাক স্ট্রিটের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেন অভিষেক। আর বিকেলেই ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের দপ্তরে মাঝরাতে গুন্ডা পাঠিয়েছে বিজেপি। কাগজপত্র, দলিল, রেকর্ড সব তছনছ করা হয়েছে। আমাদের চারজনকে ভিতরে আটকে রাখা হয়েছিল। অনেক অত্যাচার করা হয়েছে। নাকের ডগায় শেক্সপিয়ার সরণি থানা-সহ একাধিক থানার ভূমিকা আমরা নোট করে রাখছি। চিরকাল বিজেপি থাকবে না। আপনারা কি মনে করেন আপনাদের ওই হাতের পুতুলগুলিই একমাত্র বিরোধী, যারা আপনাদের পকেটে রয়েছে? বিজেপি নিজের দলের কর্মীদের উপরই অত্যাচার চালাচ্ছে, আর সেই ক্ষোভ ঢাকতে এই সব পুতুলদের আগলে রাখছে।’
অন্যদিকে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে ‘মধ্যরাতের বর্বরতা’ বলে তোপ দেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপরই তৃণমূলনেত্রীর তোপ, ‘খাস কলকাতার বুকে যারা মধ্যরাতে বর্বরতা চালাচ্ছে তারা গ্রামবাংলায় কী করছে, ভাবা দরকার। আপনারা সিজেপি-র আন্দোলন দেখেছেন। কিন্তু বাংলার ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন কিংবা মা-বোনেদের প্রতিবাদ এখনও দেখেননি! প্রয়োজন পড়লে এই বিরোধিতার আঁচ এবার কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হবে। চার মাস হয়ে গেল, তবুও ওদের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ যেন শেষই হচ্ছে না! বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে, হকার ও ছোট দোকানদারদের রুজি-রুটিতে আঘাত হেনে দোকান ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের অত্যাচার যেভাবে চরমে উঠেছে, বাংলায় এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি।’
তাছাড়া দিল্লি পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এখানেই শেষ নয়, দল ভাঙার বিষয় নিয়েও বিজেপিকে তুলোধনা করেছেন তিনি। মমতার হুঁশিয়ারি, ‘দরকার হলে দিল্লি পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন করব। অত্যাচার বন্ধ না হলে আমি দিল্লি যাব এবং সেখানে বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসব। এখানে হকারেরা কাঁদছেন, দোকান ভাঙা হচ্ছে কোনও বিকল্প ছা়ড়াই। মধ্যরাতে অপারেশন চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন। না হলে মানুষ ললিপপ ধরিয়ে দেবে। যারা আজ অন্যের দল ভাঙছে, তাদের মনে রাখা উচিত একদিন তাদেরও একই পরিণতি ভুগতে হবে।’