মমতার উপর হামলার প্রতিবাদ, ঋত গোষ্ঠীর তিন বিধায়ক হাজির কুণালের মিছিলে

Protest Rally Photo-SNS

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-জুতো ছুড়ে হামলা করা হয়েছিল হালিশহরে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে কালীঘাট-শিবিরের সব নেতা-নেত্রীই। বিধানসভাতে সোমবার ব্যানার হাতে প্রতিবাদ মিছিল করেন কুণাল ঘোষ, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তবে আচমকা একটা ঘটনা রাজ্য-রাজনীতিতে সকলকে চমকে দিয়েছে। সেটা হলো, এই কর্মসূচিতে যোগ দিলেন ঋত শিবিরের তিন বিধায়ক। তৌসিফ রহমান, আবদুল খালেক মোল্লা এবং বিভাস সর্দার।

এদিকে ক্ষমতায় না থাকলেও প্রতিবাদ করার সময় তাঁকেই পথে নামতে দেখা যায়। আর তাই বিদ্রোহ করে ঋতব্রত শিবিরে নাম লেখালেও নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানছেন ‘ভাল’ তৃণমূলের একাংশ। তাহলে কি গোপনে ঋত শিবিরে সিঁদ কাটল কালীঘাট তৃণমূল? উঠছে প্রশ্ন। শুধু মিছিলে অংশ নেওয়াই নয়, এই তিন ঋত শিবিরের বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা নিয়ে সুর চড়ালেন বিজেপির বিরুদ্ধেও। এখানেই শেষ নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে যখন কালীঘাট শিবির সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করছিল, তখন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পাশে দেখা যায় বসিরহাটের বিধায়ক তৌসিফ রহমান, মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আবদুল খালেক মোল্লা এবং বারুইপুর-পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দারকে। পরে বিধানসভা চত্বরে ব্যানার নিয়ে যখন কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় মিছিল করেন, তখনও দেখা যায় ঋত-শিবিরের বিধায়কদের।

অন্যদিকে এই হামলার ঘটনা নিয়ে সব রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরাই সমালোচনা করেছেন। তার পর এই মিছিল বিধানসভার অন্দরে নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে ঋত শিবিরের তিন বিধায়ক যোগ দেওয়ায় বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তবে কি ঋতব্রত শিবিরে ভাঙন শুরু হয়ে গেল? তাহলে কি ‘পরামর্শদাতা’ মনে করেই তৃণমূলনেত্রীর হামলার প্রতিবাদ দেখালেন ঋতব্রতপন্থীরা? কুণাল ঘোষ এদিন দাবি করেন, ‘যারা হামলা করেছে তাদের সরকার মদত দিচ্ছে। তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাদের চিহ্নিত করতে হবে। ভয় দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে থামানো যাবে না।’ বিধানসভাতে বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে হাজরায় বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূলের যুব নেতৃত্বে। কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সামিল হন আইটি সেলের নেত্রী উপাসনা চৌধুরী, যুব তৃণমূলের সভাপতি অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়রাও।


তাছাড়া বিধানসভার প্রতিবাদ মিছিল থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়করা। এমনকী ঋত শিবিরের বিধায়করাও সুর চড়িয়েছেন। এই ঘটনা নিয়ে বিভাস সর্দার বলেছেন, ‘আমাদের নেত্রীর উপর আঘাত হয়েছে। তীব্র প্রতিবাদ করছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীকে জিতেছি। তৃণমূলের ৮০ জনেরই এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত।’ আর আবদুল খালেক মোল্লা বলেন, ‘নেত্রীর গাড়িতে আঘাতের প্রতিবাদ করছি। আমি ঋতব্রতপন্থী, কিন্তু মমতার উপর হামলার জন্য প্রতিবাদ করছি।’ শেষে তৌসিফ রহমানের মন্তব্য, ‘যেখানে দিদি সেখানে আমি। আমি বসিরহাটে ১০টা ভোট পাব না, যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি না থাকে। আমাদের ঋতব্রত শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল মমতাদি চেয়ারম্যান হবেন। কিন্তু আজ হবে, কাল হবে করে আর হয়নি।’