শিক্ষক দিবসে শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে রাজ্যের তূণমূল সরকারকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর সেই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’-এর শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সেখানেই নাম না করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন মমতা। পাশাপাশি বিজেপিকে ‘রুচিহীন’, ‘সংস্কৃতিহীন’ এবং ‘প্রচারসর্বস্ব’, দল বলেও কটাক্ষ করেন।
শিক্ষকদের কথা তুলে মমতা বলেন, ‘শিক্ষাগুরুরা আজ অসম্মানিত, বঞ্চিত, অত্যাচারিত। অথচ ছোটবেলায় শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞানই আমাদের জীবনের চলার পথের পাথেয়।’ শনিবার সকালে নিউ টাউনের এক অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, তৃণমূল জমানায় শিক্ষাক্ষেত্রে চরম দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ছাড়া কোনও কাজই হয়নি।
তারই জবাবে মমতার পাল্টা দাবি, তিনি সব বিধায়ক ও সাংসদকে এলাকায় পাঁচটি করে স্কুল ভবন তৈরি করতে বলেছিলেন। রাজ্যসভার সাংসদদের তহবিল থেকেও তৈরি হয়েছে বহু স্কুল ভবন। স্কুলে দেওয়া হয়েছে অ্যাম্বুল্যান্স এবং সিসিটিভি। তাঁর সরকারের তৈরি সেই পরিকাঠামোর ঠিকঠাক রক্ষণাবেক্ষণ কলেই উন্নয়নের পথে রাজ্য অনেক এগিয়ে যাবে।
এর পরেই রাজ্যের বিজেপি সরকারের প্রচারনীতি নিয়েও সরব হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কটাক্ষ, তিনি জীবনে কখনও এমন প্রচার দেখেননি। মমতার অভিযোগ, বিজেপি দেশটাকেও চেনে না, বাংলাকেও চেনে না। বিজেপি রুচিহীন, সংস্কৃতিহীন, সম্প্রীতিহীন, নীতিহীন এক দল।
হকার উচ্ছেদ এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ করার অভিযোগ করেও শুভেন্দু সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন মমতা। তাঁর প্রশ্ন, বিকল্প ব্যবস্থা না করে দরিদ্র মানুষের জীবন-জীবিকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে কেন? কেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে মহিলাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে? প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রয়োজন সম্পর্কে বিজেপির কোনও ধারণাই নেই।