জনপ্রতিনিধি হয়েও নিজের লোকসভা কেন্দ্রেই কি নিরাপদ নন মহুয়া মৈত্র? কখনও দলীয় কার্যালয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ, কখনও গাড়িতে যাতায়াতের পথে হেনস্থা। বারবার এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ে এবার সর্বক্ষণের নিরাপত্তারক্ষী চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। তাঁর নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে যুক্ত করার নির্দেশ দিল আদালত।
বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে মামলায় যুক্ত করতে হবে। আগামী ২ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি। মহুয়ার অভিযোগ, নিজের লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে একাধিক বার হেনস্থার শিকার হয়েছেন তিনি। এর আগে তাঁকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু সেই নিরাপত্তা সত্ত্বেও ফের হামলার মুখে পড়ার অভিযোগ ওঠায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এবার তাই শুধু নিরাপত্তারক্ষী নয়, সর্বক্ষণ তাঁর পাশে একজন নিরাপত্তাকর্মী রাখার আবেদন জানিয়েছেন সাংসদ।
এর আগে অন্য একটি মামলায় মহুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তার জন্য দু’জন রক্ষী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। গত ৭ অক্টোবর রাজ্যের কাছে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন বিচারপতি। একজন সাংসদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কী কী বিধি রয়েছে, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছিল।
বুধবার সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেন রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা এবং সাংসদদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ‘ইয়েলো বুক’ মেনেই মহুয়াকে এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু সরকারি নির্দেশিকা মেনে নিরাপত্তা দেওয়া আর বাস্তবে সেই নিরাপত্তা কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নই আদালতে তুলেছেন মহুয়ার আইনজীবী অর্ক নাগ। তাঁর সওয়াল, সাংসদের নিরাপত্তায় একজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী (পিএসও) রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তিনি সর্বক্ষণ মহুয়ার সঙ্গে থাকেন না। সাম্প্রতিক হেনস্থার ঘটনার পর অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে বলেও আদালতে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ইভিএমের আকাল কাটাতে পুরনো তথ্য মুছতে নির্দেশ হাইকোর্টের, পুরভোটের জট কাটল!
মহুয়ার আইনজীবীর বক্তব্য, নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পদক্ষেপ করতে পারে। তাই এই মামলায় অমিত শাহের অধীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেও পক্ষ করা প্রয়োজন। সেই আবেদনেই সায় দিয়েছে আদালত। এখন প্রশ্ন, নির্দিষ্ট নিরাপত্তা-বিধি মেনে এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তা থাকলেও কেন সর্বক্ষণের নিরাপত্তারক্ষী চাইছেন সাংসদ? তাঁর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের ভূমিকা কী হবে? আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে আদালত। আগামী ২ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।