ঋতব্রত আউট মমতা ইন, বিদ্রোহী শিবির ছেড়ে কালীঘাটের পথে বিধায়ক রথীন

Madhyamgram MLA Rathin Ghosh Photo-SNS

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হওয়ার পর বিধায়কদের একটা বড় অংশ ভেঙে নিয়ে গিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই দাবি করেছিলেন, দলের প্রতীক এবং তহবিল। সেই বিদ্রোহী শিবিরে অনেক বিধায়কই নাম লিখিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে ফেরার পালা শুরু হল। কদিন আগেই ওই শিবির থেকে কালীঘাটে ফিরেছেন কাশেম সিদ্দিকি। এবার সেই পথে ফিরছেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ। সুতরাং ঋতব্রত আউট হয়ে গেলেন এবং মমতা ইন হয়ে গেলেন রথীনের কাছে। আর এটা এমন দিনে করলেন যেদিন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু দুই শিবিরকে শুনানিতে ডেকেছেন।

এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে কালীঘাটমুখী ‘বিদ্রোহী’ মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ। ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবার বিধায়ক জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই ছিলেন তিনি। ঋতব্রত তৃণমূল বলে কিছু নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া টিকিটেই বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এটা ঋতব্রত শিবিরে বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ ১৫ দিন সময় দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সেই সময়সীমার মধ্যেই সাড়া দিলেন বিধায়ক রথীন। সেক্ষেত্রে আর একটি বিধায়ক বাড়ল মমতা শিবিরের। প্রায় ৬০ জন বিধায়ক ঋতব্রত শিবিরে চলে গিয়েছিলেন। এবার সেখান থেকে দু’জন ফিরলেন। সেক্ষেত্রে ২০ সংখ্যা বেড়ে ২২ হল।

যেসব বিধায়করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে গিয়েছিলে তাঁদের সমর্থনেই বিরোধী দলনেতা বিধানসভায় নির্বাচিত হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিধায়কের তালিকাতেই ছিলেন রথীন ঘোষও। ইতিমধ্যেই ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের বারবার ‘ঘরে ফেরা’র ডাক দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কদিন আগেই ঋতব্রত শিবির থেকে কালীঘাট শিবিরে ফিরেছেন আমডাঙার বিধায়ক কাশেম সিদ্দিকী। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন। এবার ঋত শিবিরের আর এক বিধায়ক রথীন ঘোষ জানিয়ে দিলেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই ছিলেন। ঋত শিবির বলে আলাদা কোনও শিবির নেই। রথীন ঘোষ ফিরে আসার পর তাঁর উপর পুলিশের নির্যাতন বাড়ে কিনা সেটাই দেখার।


তাছাড়া এই ঘটনা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তাহলে কি এবার একে একে ঘরে ফেরার পালা? উঠছে প্রশ্ন। এই ঘরে ফেরা নিয়ে বিধায়ক রথীন ঘোষ বলেন, ‘ঋতব্রত তৃণমূল বলে কিছু নেই। ঋতব্রত আলাদা শিবির বলে আমি মনে করি না। আমি মমতাকে দেখেই রাজনীতি করছি, মমতার সঙ্গেই আছি। মমতার দেওয়া টিকিটে জিতেছি, তৃণমূল ছেড়ে যাইনি। তৃণমূলে ছিলাম, আছি, থাকব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও আন্দোলন কর্মসূচি করলে ওই কর্মসূচিতে তৃণমূল কর্মী হিসেবেই থাকব।’ আর এই বিষয়ে মমতা শিবিরের নেতা তথা আইনজীবী বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘ঋতব্রতর কোনও সংগঠন নেই। এখন সকলে সেটা বুঝতে পারছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলকে আবেদন করেছেন। ঋতব্রতর সঙ্গে থাকা মানে বেইমানের সঙ্গে থাকা। রথীনবাবু সেটা উপলব্ধি করে কথাগুলি বলেছেন।’