দুর্গাপুজো আসতে আর একমাসও বাকি নেই। কিন্তু দুর্গাপুজোয় ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ঠিকঠাক রাখতে বিশাল পুলিশ নামাতে হয়। শহরের রাস্তা থেকে জেলার বড় পুজোয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে হয়। সব জেলায় সেভাবে বিশাল পুলিশবাহিনী নামাতে হয় না। বরং শহরে তা মোতায়েন করতে হয়। কারণ জেলা থেকে মানুষ শহরের বিগ বাজেটের দুর্গাপুজো দেখতে মণ্ডপে ভিড় করেন। তার জেরে দুটি সমস্যা দেখা দেয়। এক, শহরের রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। দুই, রাজপথে মানুষের ঢল নামায় নিরাপত্তা দিতে কঠিন অবস্থা হয়।
এই পরিস্থিতি ঠেকাতে এবার দুর্গাপুজোয় শহরে যান নিয়ন্ত্রণ করতে ড্রোন ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে। এবারের দুর্গাপুজোয় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালাবে কলকাতা পুলিশ। ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে দেখা হবে শহরের কোন রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেশি রয়েছে। ওই আপডেট পেয়ে তার ভিত্তিতে যান চলাচল সচল এবং স্বাভাবিক রাখবেন ‘পথে কর্তব্যরত’ উর্দিধারীরা। তাই ইতিমধ্যেই দুটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ড্রোন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লালবাজার বলে সূত্রের খবর।
কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর সূত্রে খবর, এই অত্যাধুনিক ড্রোন কেনার জন্য খরচ হবে এক কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই সেটার দরপত্র ডেকেছে লালবাজার। ১৫ দিনের মধ্যেই ড্রোন হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে। দুর্গাপুজোয় যে পথগুলিতে ট্রাফিক জ্যাম দেখা যায় তার একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকায়-উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার, বেলগাছিয়া রোড, টালা পার্ক, হাতিবাগান ও মধ্য কলকাতার কলেজ স্ট্রিট এবং দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী মোড়, গড়িয়াহাট চত্বর রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং সামলাতে রীতিমতো মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয় পুলিশকে। এই কয়েকটি ক্রসিংয়ে যানজট তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আশপাশেও ব্যাপক যানজট হয়। সেক্ষেত্রে গাড়ি লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে এবার আগে থেকেই যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ।
তাছাড়া লালবাজার সূত্রে খবর, ট্রাফিক বিভাগের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে ওই দুটি ড্রোন। উত্তর এবং মধ্য কলকাতার মধ্যে ঘোরাফেরা করবে একটি ড্রোন। আর দ্বিতীয়টি নজরদারি চালাবে দক্ষিণ কলকাতায়। এই বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের দাবি, উপর থেকে রাস্তায় যানজটের স্পষ্ট চিত্র মিলবে। ‘পথে কর্তব্যরত’ অফিসাররা যা আগে দেখতে পেতেন না। তাই যান নিয়ন্ত্রণে তাঁদের কিছুটা সমস্যা হতো। সেই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যের কথা ভাবা হয়েছে। এই ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ নানা যানবাহনকে দ্রুত বিকল্প রুট দিয়ে ঘুরিয়ে দিতে পারবে। তাতে দ্রুত যানজট মুক্ত হবে।