পুলিশের টাকা তোলা নিয়ে অভিযোগ বেশ কিছুদিন ধরে আসছিল। এমন অভিযোগে আগে কড়া পদক্ষেপ করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। চাকরি থেকে বরখাস্ত করার মতো ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু তা থেকে পুলিশের একাংশ শিক্ষা নেয়নি বলেই অভিযোগ। তাই এবার তোলাবাজির অভিযোগে ভাঙড় ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট এবং কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করল লালবাজার। এই দু’জন পণ্যবাহী গাড়ি থেকে তোলা তুলছিল বলে অভিযোগ আসে। ভাঙড় এখনও কলকাতা পুলিশ এলাকার অধীন। রাজ্যে পালাবদল হলেও রাজ্য পুলিশের হাতে এখনও ফিরে আসেনি ভাঙড়।
আর এই ভাঙড়েই পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে তোলাবাজি করছিল এই দুই পুলিশকর্মী বলে অভিযোগ। ভাঙড়ের ঘটকপুকুর চৌমাথায় রীতিমতো ট্রাক থামিয়ে টাকা আদায় চলছিল বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তরে সেই অভিযোগ পৌঁছতেই নড়েচড়ে বসে লালবাজার। তদন্ত করে দেখা যায়, অভিযোগ সঠিক। আর তখনই এক ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং এক কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। একইসঙ্গে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তোলাবাজি, গুন্ডামি, দুর্নীতির ক্ষেত্রে এই সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। তাই অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ হলো।
গত কদিন ধরেই পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছিল ভাঙড়ের ঘটকপুকুর চৌমাথা এলাকায়। শেষ পর্যন্ত ওই অভিযোগ পৌঁছয় মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে লালবাজার। লালবাজার সূত্রে খবর, গত ২৭ আগস্ট এই ঘটনা সামনে আসে। আর দুই পুলিশকর্মী এবং এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন, নুরুল ইসলাম মোল্লা এবং শিবনাথ ঠাকুর। নুরুল ইসলাম মোল্লা ভাঙড় ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট। আর শিবনাথ ঠাকুর ওই ট্রাফিক গার্ডের কনস্টেবল। দু’জনকেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে। আর আলি হাসান মোল্লা নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তাছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা পণ্যবাহী গাড়ি থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ আসলে যে কড়া পদক্ষেপ করা হবে সে বার্তা আগেই দেওয়া হয়েছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোনও পুলিশকর্মী টাকা আদায় করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আগেই স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশের পরেও এমন তোলাবাজি করার অভিযোগে লালবাজারের এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রে খবর। উল্লেখ্য, আগে বালির গাড়ি থেকে টাকা তোলার অভিযোগে ঝাড়গ্রাম থানার এক কনস্টেবলকে দুর্নীতি দমন শাখা গ্রেপ্তার করেছিল। তারও আগে হাওড়ার ব্যাঁটরা থানার এক পুলিশ অফিসারকে থানায় বসে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।