দুর্গাপুজোর পাশ দুর্নীতি কাণ্ডে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ নগদ জমা পড়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ওই টাকা আবার পরে তোলাও হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ নগদ কেন জমা পড়ল ইন্দ্রনীলের অ্যাকাউন্টে? সেটাই খুঁজছেন সিটের অফিসাররা। আবার তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন তদন্তকারীদের জেরায় জানিয়েছেন, আর্থিক বিষয়টি সংস্থার পদাধিকারি ধ্রুবজ্যোতি বসু দেখতেন। এবার সোমবার বিপাকে তাঁর মেয়েও। ইন্দ্রনীল সেনের মেয়েকেও তলব করল লালবাজার। সোমবারই লালবাজারে তলব করা হয়েছে আভেরি সেনকে। ইন্দ্রনীলের মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও টাকা ঢুকেছিল বলে অভিযোগ। তা আবার পরে তোলাও হয়।
যে নির্দিষ্ট ২৪টি দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো নিয়ে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে ডোনার পাস বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ সেটার টেন্ডারেও গরমিল রয়েছে বলে তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ইন্দ্রনীল সেন পর্যটনমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর ঘনিষ্ঠ তিন কোম্পানিকে টেন্ডার দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সেখানে দেখা যাচ্ছে ২৪টি মণ্ডপের বাইরে এলইডি স্ক্রিনে মহালয়া থেকে টানা ১২ দিন বিজ্ঞাপন চলত। আর সেখানেও নানা গরমিল আছে। তাঁর মেয়ের কোম্পানির অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা ঢুকেছে প্রাক্তন বিধায়কের অ্যাকাউন্টে। এমনকী প্রায় রোজই বিপুল পরিমাণ নগদ জমা পড়েছে তাঁর একাধিক অ্যাকাউন্টে। ইন্দ্রনীল কন্যার অ্যাকাউন্টেও টাকার লেনদেন হয়েছে। ওই বিষয়ে লালবাজারে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। লেনদেনের উৎস জানতে চাইতে পারে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর দপ্তর থেকে ইন্দ্রনীল তিন ঘনিষ্ঠ সংস্থাকে এলইডি স্ক্রিনগুলির টেন্ডার দিতেন। ওই তিন সংস্থা আবার অন্য এক সংস্থাকে বরাত দিত। যাতে একাধিক বিজ্ঞাপন ওই স্ক্রিনে চলে। কোন মণ্ডপে, কোন বিজ্ঞাপন কতক্ষণ চলবে সেটা এই সংস্থাটিই ঠিক করত। তার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া নানা সংস্থা থেকে মোটা টাকা নেওয়া হতো। এই নানা সংস্থার মাধ্যমে হাত বদলে ওই বিজ্ঞাপনের টাকা আসত ইন্দ্রনীল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে। মণ্ডপের বাইরে গেটের কাছে এলইডি বোর্ডের জন্য দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তা ক্লাবগুলিকে দেওয়া হতো দেড় থেকে দু’লক্ষ টাকা বলে তথ্য মিলেছে। এভাবেই মুনাফার মোটা অংশ চলে যেত ইন্দ্রনীল-সহ তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে। দুর্গাপুজোয় পাস বিক্রির টাকা আভেরি সেনের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে সরকারি টেন্ডার দুর্নীতির টাকাও ঢুকেছে বলে অভিযোগ। এই টাকার উৎস কী, কত পরিমাণ টাকা ঢুকেছে জানতেই এদিন ডেকে পাঠানো হয়েছে তাঁকে।
তাছাড়া ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে কদিন আগেই লালবাজারে তলব করেছিল কলকাতা পুলিশ। রক্ষাকবচ নিয়ে গত শনিবার তিনি লালবাজারে হাজিরা দেন এবং প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে ইন্দ্রনীলের আইনজীবী বলেন, ‘সব অভিযোগই ভিত্তিহীন।’ আর জেরায় ইন্দ্রনীল সেন দাবি করেছেন, সবটাই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এসেছে। তাই এখানে দুর্নীতির কোনও জায়গা নেই। স্বচ্ছ রোজগারের বাইরে বাড়তি কোনও অর্থ তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। নগদের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি এই মামলার আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে ইডি।