চোরবাগানের দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে এবার কলকাতা পুলিশের স্ক্যানারে উঠে এল শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল। মণ্ডপ সজ্জার খুঁটিনাটি তাঁর হাত ধরেই হয়েছিল। থিমের পুজোমণ্ডপ গড়ার শিল্পী ছিলেন তিনিই। এবার সেসব তথ্য জানতে তাঁকে ডেকে পাঠাল লালবাজার। এমনকী হাজিরা দিতে হবে বুধবারের মধ্যে। সেখানেই তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে বলে জানা গিয়েছে। মণ্ডপের নকশা কীভাবে হয়েছিল এবং সেটাতে কোনও ত্রুটি ছিল কিনা জানতেই এই থিমশিল্পীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তিনজনকেও তলব করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ চায় তদন্তকারী দল।
এই পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ পেতেই থিমশিল্পী থেকে শুরু করে তিন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলতে চান লালবাজারের কর্তারা। সপ্তমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপ এবং তার আশাপাশে উপস্থিত ১২ জন পুলিশ কর্মীকেও তলব করা হয়েছে। তাঁদের বয়ানও রেকর্ড করা হতে পারে। ভিড়ের চাপে ভেঙে পড়ে চোরবাগান সার্বজনীন পুজোমণ্ডপের একাংশ। তাতে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১৯ জন। উৎসবের শহরে এত বড় বিপর্যয় সাম্প্রতিক অতীতে নজির নেই। গোটা দুর্গাপুজো কেটেছে চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনার রেশ ধরেই। এই বিপর্যয়ের দায় কার? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে বিশেষ সিট গঠন করে তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশ।
তদন্তে উঠে এসেছে, ওইদিন মণ্ডপে বিপদের সময় মাইকে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তার জেরে দু’জন ঘোষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জেরাও চলছে। কিন্তু এখনও এই পুজো কমিটির মাথায় যাঁরা রয়েছেন তাঁদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেই অভিযোগ। ১৯ জন মৃতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ১৭ জন। আর বাকি দু’জন ভিন রাজ্যের বাসিন্দা। এই রাজ্যের বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৫ লক্ষ টাকা এবং একটি সরকারি চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। কলকাতা পুলিশও পৃথক তদন্ত করছে। তাই এই থিমশিল্পীকে তলব করা হয়েছে।
তাছাড়া চোরবাগান সার্বজনীনের থিমশিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তাঁকে বুধবারের মধ্যে লালবাজারে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর শিল্পী নিজেই নিজের দায়বদ্ধতার কথা প্রকাশ করেছিলেন। এতজন মানুষের মৃত্যুতে কার্যত বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছেন সুশান্তবাবু। এই মণ্ডপ তাঁর সৃষ্টি। আর সেই সৃষ্টি দেখতে এসেই প্রাণহানি হয়েছে। এটাই বারবার তাঁর মনকে অশান্ত করে তুলেছে। কোন নকশা মেনে মণ্ডপ তৈরি হয়েছিল? জানতে চান শিল্পীর কাছে।