তিন মাস অন্তর দিতে হবে সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজের রিপোর্ট, কড়া নির্দেশ লালবাজারের

Civic Volunteer Photo-SNS

এবার সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজের রূপরেখা নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) তৈরি করল লালবাজার। অর্থাৎ এখন থেকে সিভিক ভলান্টিয়াররা কোন কাজ করতে পারবেন এবং কোন কাজ করতে পারবেন না তা জানিয়ে এসওপি প্রকাশ করল লালবাজার। এই এসওপি-তে উল্লেখ করা হয়েছে, কাজে অবহেলা থেকে শুরু করে চাঁদা আদায় অথবা অন্য কোনও ফৌজদারি মামলায় নাম জড়ালে সংশ্লিষ্ট সিভিক ভলান্টিয়ারকে সাসপেন্ড বা স্থায়ীভাবে কাজ থেকে বরখাস্ত করা যাবে। আর আচরণবিধি না মানলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এমনকী সিভিক ভলান্টিয়াররা কেমন কাজ করছেন সেটা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তিন মাস অন্তর রিপোর্ট দিতে হবে সংশ্লিষ্ট থানাকে।

সিভিক ভলান্টিয়ারদের বিরুদ্ধে আগে নানা অভিযোগ উঠেছে। বহু কুকীর্তির সঙ্গে নাম জড়িয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের। যদিও কিছু ভাল সিভিক ভলান্টিয়ারও আছেন। সব সিভিক ভলান্টিয়ারদের কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর সরকার বেতন-সহ নানা সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দিয়েছেন। সুতরাং কাজও সঠিক পথেই হওয়া উচিত। ২০২৪ সালে আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে। সিভিক ভলান্টিয়ারদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। ‘নো-এন্ট্রি’ থাকাকালীন ট্রাক ঢোকানো এবং ব্যক্তিগত গাড়ি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়া-সহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

এবার এমন সব কাজ বন্ধ করতেই কড়া এসওপি নিয়ে আসা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসেই ঝাড়খণ্ডের ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে কলকাতার এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে। তাই সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা এবং নজরদারি নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই নতুন এসওপি প্রকাশ করল কলকাতা পুলিশ। এই নয়া এসওপি-তে বলা হয়েছে, কোনও সিভিক ভলান্টিয়ার দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, শৃঙ্খলাভঙ্গ, ফৌজদারি মামলায় জড়ালে, অনুমতি না নিয়ে কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে, দুর্নীতি, তোলাবাজি, অবমাননাকর আচরণ করলে তাঁকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড বা বরখাস্ত করতে পারবেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার, হোমগার্ড অর্গানাইজেশন।


তাছাড়া প্রত্যেক থানাকে লালবাজারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সিভিক ভলান্টিয়াররা কে, কেমন কাজ করছেন তিন মাস অন্তর তার রিপোর্ট পাঠাতে হবে। কোনও সিভিক ভলান্টিয়ার কাজে অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার অথবা ইউনিট ইন-চার্জকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। বিনা অনুমতিতে কোনও সিভিক ভলান্টিয়ার কাজে টানা সাতদিন না এলে তাঁকে প্রথমে নোটিস দেওয়া হবে। নোটিস হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হবে। তার সাতদিন পরে তাঁকে চূড়ান্ত নোটিস পাঠিয়ে অনুপস্থিতির কারণ দর্শাতে বলা হবে। দ্বিতীয় নোটিসের জবাব না দিলে অথবা জবাব সন্তোষজনক না হলে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে সেই কর্মী অসুস্থ হলে বা পরিবারে কারও মৃত্যু হলে তা বিবেচনা করতে হবে।