ইন্দ্রনীলের সংস্থার অন্যতম মাথা ধ্রুবজ্যোতি গ্রেপ্তার, তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

Indranil Sen Photo-ANI

দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি এবং প্রিভিউ শো সামনে রেখে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে আরও খানিকটা এগোলো কলকাতা পুলিশ। ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তারের পর এবার এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হল মাস আর্ট সংস্থার সচিব ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভকে। গতকাল রাতে টেরিটি বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাস বিক্রির পরিকল্পনা এবং দুর্নীতির টাকা আড়াল করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ধ্রুবজ্যোতির বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়, দিঘার জগন্নাথদেবের মন্দিরের প্রসাদ বিতরণ থেকে শুরু করে অমিতাভ বচ্চনের জন্মদিন পালন-সহ নানা খাতে পর্যটন দপ্তর থেকে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার পেয়েছে শুধু প্রাক্তন মন্ত্রীর সংস্থাই। ইউনেস্কোর নাম ভাঁড়িয়ে দুর্গাপুজো পাস বিক্রি করেও বিপুল টাকার র্নীতির তদন্তও শুরু করেছে লালবাজারের ‘সিট’।

পুলিশের সূত্রে খবর, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়। তার পরই তৈরি হয়েছিল মাস আর্ট সোসাইটি। ওই সংস্থাকে সামনে রেখেই দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস এবং প্রিভিউ শো-এর টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। এই সংস্থার অন্যতম মাথা ছিলেন ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং ইন্দ্রনীল সেন। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের টেন্ডারে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছিল ওই সংস্থা। বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর নাম এবং লোগো ব্যবহার করে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোটা টাকায় পাস এবং টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। তদন্তে এমন সব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রাথমিক তদন্তে ১৫০টি টেন্ডারের হদিশ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। গত পাঁচ বছরে এই প্রত্যেকটি টেন্ডার প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থাই পেয়েছেন বলে দাবি লালবাজারের। ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দাকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তাঁর মেয়ে আভেরি সেনকেও তলব করা হয়েছিল। তবে তিনি আসেননি। তাই বৃহস্পতিবার তাঁকে আবার তলব করা হয়েছে। কিন্তু এবারও তিনি না এলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারও করতে পারে। তদন্তকারীদের দাবি, এই দুর্নীতিতে মোট ১১৫ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ হয়েছে। পুজোর পাস বিক্রি করেই ৬০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, দুর্নীতির টাকা আড়াল করার দায়িত্বে ছিলেন ধ্রুবজ্যোতি। টালা প্রত্যয় পুজোর সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন ধ্রুবজ্যোতি ওরফে শুভ।


তাছাড়া লালবাজার সূত্রে খবর, নানা সময় ব‌্যানার লাগানো থেকে শুরু করে রেড রোড কার্নিভাল, রাস্তা সাজানো, অমিতাভ বচ্চনের জন্মদিন পালন, দিঘার জগন্নাথদেবের মন্দিরের প্রসাদ বিতরণ, নানা জায়গায় মিষ্টি বিতরণ থেকে একাধিক কারণ দেখিয়ে গত পাঁচ বছরে অন্তত ১৫০টি টেন্ডার দিয়েছে পর্যটন দপ্তর। প্রত্যেকটি টেন্ডারই তিনটি সংস্থা পেয়েছে। ওই তিনটি সংস্থাই ইন্দ্রনীলের বন্ধুদের সংস্থা। নিজের স্ত্রীর সংস্থাও আছে। এই সংস্থাগুলির উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল প্রাক্তন মন্ত্রীর।