ঘোষকদের কণ্ঠস্বর সংগ্রহ করতে আদালতে আবেদন পুলিশের, চোরবাগানের প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রস্তুতি শুরু

Chorbagan Area Silent Photo-SNS

চোরবাগানের প্রতিমাকে বের করে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিমা বের করার জন্য প্রস্তুত ৪০ জন কুলি। তারপরই নিরঞ্জনের জন্য দেবীমূর্তিকে নিয়ে যাওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। দেবীমূর্তি বের করতে খোলা হয়েছে মণ্ডপের সামনের অংশ। শনিবারই অভিশপ্ত চোরবাগানের প্রতিমা বিসর্জন হওয়ার কথা। একসপ্তাহ আগে, সপ্তমীর রাতে চোরবাগানে প্রবল ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। ইতিমধ্যেই তদন্তের জন্য সিট গঠন করা হয়েছে। মণ্ডপ অক্ষত রেখেই প্রতিমা বের করা হবে। তাই মণ্ডপের সামনের অংশ কাটা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই আবহে সেন্টু এবং কালিয়ার কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, ওইদিন দুর্ঘটনার সময় এলাকায় যে মাইকিং বা ঘোষণা করা হয়েছিল সেটার সঙ্গে ধৃতদের গলা একেবারে মিলে যাচ্ছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দুর্ঘটনার সময়ের একাধিক সিসি ক্যামেরা এবং অন্যান্য ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু এমন ভিডিও ফুটেজ শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলিতে ওই সময়ের বিতর্কিত বা নির্দেশমূলক ঘোষণা স্পষ্টভাবে শোনা গিয়েছে। ওই অডিও ফাইলগুলি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেখান থেকেই প্রমাণ হয়ে যাবে কে বা কারা ঘোষণা করেছিলেন পরিস্থিতি নিয়ে। আর তার জন্যই দরকার কণ্ঠস্বরের নমুনা। পুলিশ ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার সময়ের মাইকিংয়ের ৩-৪টি অডিও এবং ভিডিও ক্লিপ নানা সূত্র থেকে সংগ্রহ করেছে। আর আদালতের অনুমতি পেলেই ধৃত সেন্টু এবং কালিয়ার কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তারপর সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজের অডিওর সঙ্গে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে মিলিয়ে দেখা হবে।

এই কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করে মেলালেই ওই দুর্ঘটনার সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগ আছে নাকি নেই তা চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এই মামলার তদন্তে গতি আনতে সাক্ষ্যপ্রমাণের পরিধিও অনেকটাই বাড়িয়েছে পুলিশ। চোরবাগান কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ৬০ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃহৎ তালিকায় আছেন সেদিনের ঘটনায় আহত বেশ কয়েকজন ব্যক্তিও। আর ঘটনাস্থলে ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজন হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার, স্বেচ্ছাসেবক, বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মী এবং স্থানীয় এলাকার বেশ কিছু সাধারণ মানুষেরও বয়ানও নেওয়া হয়েছে। কী ঘোষণা হয়েছিল? কারা ঘোষণা করেছিল? এই দুটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়াই এখন পুলিশের মূল কাজ।


তাছাড়া ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’ এই ঘোষণা যিনি করেছিলেন সেটা চিহ্নিত করতেই দরকার কণ্ঠস্বরের নমুনা। যা সংগ্রহ করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পুলিশ। সন্দেহভাজন দুই ঘোষককে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও তাঁরা অন্য কথা বলেছেন। ফলে তদন্ত করতে সমস্যা হচ্ছে। পুলিশই ঘোষণা করতে বলেছিল বলে তাঁদের দাবি। এখন দেখার সত্য বেরিয়ে আসে কিনা।