দুর্গাপুজো নিয়ে চাঁদার জুলুম ঠেকাতে কড়া কলকাতা পুলিশ, টোল-ফ্রি নম্বর চালু

Kolkata Police Photo-ANI

সামনেই দুর্গাপুজো। ইতিমধ্যেই শহরের বিগ বাজেটের মণ্ডপগুলি শেষের পথে। এমনকী মাঝারি বাজেটের পুজোগুলিও জোরকদমে কাজ করছে। এই আবহে অভিযোগ উঠেছে বহু পুজো কমিটির নাম করে সাধারণ মানুষের কাছে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। আর তা দিতে অস্বীকার করলে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকী কোথাও কোথাও হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে পাড়ার ক্লাবগুলির দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে এমন অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। আর তার জেরে থানার দ্বারস্থ হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ক্লাবগুলির চাঁদার জুলুমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠার অভিযোগ এসে পৌঁছেছে পুলিশের কাছে। তাই এবার কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ। চাঁদার জুলুম ঠেকাতে এবার তৎপর হয়ে উঠল পুলিশ।

এখানেই বিষয়টি থেমে থাকছে না। চাঁদার রসিদে নির্দিষ্ট একটা অঙ্ক বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলেই চলছে জুলুমবাজি। আর তাতেই তিতিবিরক্ত হয়ে উঠেছেন মহানগরীর বাসিন্দারা। এমন অভিযোগ পৌঁছে গিয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কানে। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও মানুষকে যেন এমন জুলুমবাজিতে পড়তে না হয় তার জন্য পুলিশ সজাগ থাকুক। আর এমন অভিযোগ পেলে কড়া হাতে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই নির্দেশ পাওয়ার পর থেকেই কলকাতা পুলিশ একটি টোল-ফ্রি নম্বর চালু করল। যেখানে চাঁদার জুলুমবাজির অভিযোগ সরাসরি জানানো যাবে।

শহরে কোথাও কোনও চাঁদার জুলুমবাজি হলে মানুষ এবার থেকে সরাসরি পুলিশকে জানাতে পারবে। এবার থেকে সাধারণ মানুষের উপর চাঁদার জুলুমবাজি নামিয়ে আনলে সেই অভিযোগ জানানোর জন্য টোল-ফ্রি নম্বর চালু করল কলকাতা পুলিশ। এই টোল-ফ্রি নম্বর ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। এই টোল-ফ্রি নম্বরে একসঙ্গে চালু করা হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও। এখানে টেক্সট মেসেজ করেও সাধারণ নাগরিকরা চাঁদার জুলুম নিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন। আর তারপরই লোকেশনে পৌঁছে যাবে পুলিশ। অভিযুক্তদের ধরে নিয়ে আসা হবে থানায়। এমনকী থানার লকআপে রেখে শাস্তি দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। এই টোল-ফ্রি নম্বর হল-১৮০০-৩৪৫-৫৬৭৮ এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর-৯৪৩২৬২৪৩৬৫।


তাছাড়া দুর্গাপুজো নিয়ে নানা পরিকল্পনা আছে নতুন বিজেপি সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই বৈঠক করে জানিয়েছিলেন, কলকাতার আকাশে একসঙ্গে দেখা যাবে তিন হাজার ড্রোন। যার আলোর বিন্দুতে আঁকা হবে দেবীদুর্গার অবয়ব। ফুটিয়ে তোলা হবে দুর্গাপুজোর আবাহনের নানা মুহূর্ত। মহালয়া থেকে অষ্টমী, দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে হবে মেগা-শো। নবান্ন সূত্রে খবর, দেবী দুর্গার বন্দনা হবে বাংলার লোকসংস্কৃতি উৎসবের মেলবন্ধনে। আর আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক সফর। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রিবিউট মা ট্যুর’। সেখানে এসব চাঁদার জুলুমবাজি কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না।