ধর্মতলার অশান্তিতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬, খালি পায়ে অপরাধের পুনর্নির্মাণ

Esplanade Reconstruction Photo-SNS

নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে কলকাতায় মিছিল হয়েছিল ছাত্রদের। ওই মিছিলে অশান্তি, মারধর, সাংবাদিকদের হেনস্থার মতো ঘটনা ঘটার জেরে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশ। আর তার জেরে সোমবার সকালে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬। যারা হামলা চালিয়েছিল তারা কেউ ছাত্র নয়। অথচ নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে কলকাতায় বাম ছাত্র সংগঠনের মিছিলে ঢুকে পড়ে তারাই মিছিল শেষে পুলিশ এবং সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, প্রত্যেককে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন শাস্তি দেওয়া হবে যাতে তিন পুরুষ ভুলতে পারবে না।

এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, নতুন করে ধৃত দু’জনকে গার্ডেনরিচ এবং পার্ক সার্কাস এলাকা থেকে ধরা হয়েছে। কড়েয়া থানা এলাকা থেকে ওয়াকার আজম এবং নাদিয়াল থেকে জাভেদ আখতারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার ধৃতদের পাঁচজনকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে নিয়ে আসা হয়। পুলিশের সঙ্গে খালি পায়ে হাঁটতে দেখা গিয়েছে ধৃতদের। শুক্রবারের মিছিলে অশান্তি এবং ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে এরা যুক্ত ছিল। পুলিশের সঙ্গে খালি পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে যেতে দেখা যায়। তদন্তকারীদের দাবি, এই ঘটনার নানাদিক যাচাই এবং প্রত্যেকের ভূমিকা স্পষ্ট করতেই এমন পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ওই মিছিলে সাংবাদিকরা খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হন। পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল, ইট ছোঁড়া হয়েছিল। পুলিশ হামলাকারীদের চিহ্নিত করে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ‘বহিরাগত’, ‘অপরাধী’ বলে পুলিশের খাতায় আগে থেকেই নাম রয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট ধৃতের সংখ্যা ১৬। তার মধ্যে ১৪ জনকে দু’দিনের পুলিশ হেপাজতে আছে। এদিন পুনর্নির্মাণের জন্য তাদের ৫ জনকে নিয়েই ঘটনাস্থলে যায় কলকাতা পুলিশ। ওইদিনের ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য ধর্মতলায় নিয়ে আসা হয়েছিল মহম্মদ আফরোজ, সলমন, আলমগির, খালিদ রেজা এবং মহম্মদ মইনুদ্দিনকে। সকলকে গাড়ি থেকে নামিয়ে ধর্মতলার মোড় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। এই আফরোজের নামই করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।


তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় বলেছিলেন, পুলিশ অন্তত ৭০ জনকে চিহ্নিত করেছে। যারা ছাত্র নয় এবং ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যও নয়। নিট আন্দোলনের সঙ্গেও তাদের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেব, যাতে একদিন নয়, গুন্ডাদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।’ ধৃতদের এবার খালি পায়ে হাঁটিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ নেওয়া হয়। আর নোট করে নেওয়া হয় ধৃতদের বয়ান।