ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর প্রথম জন্মদিন রণক্ষেত্র চেহারা নিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। চেনা উদযাপনের ছবি বদলে গিয়ে কালীঘাটের বাড়ির সামনে উত্তেজনা দেখা দিল। রাত ১২টার পর অভিষেকের বাড়ির সামনে জমায়েত হতে শুরু করেন তাঁর অনুগামীরা। কেক, ফোম, আতসবাজি এসেছিল। কিন্তু রাত বাড়তেই পরিস্থিতি তপ্ত হল পাল্টা জমায়েতে। জন্মদিনের কোলাহলের মধ্যেই ভেসে আসে ‘চোর চোর’ স্লোগান। দু’পক্ষের সংঘাত চলে ভোর পর্যন্ত। তার মধ্যেই কালীঘাট থানার ওসির সঙ্গে মুখোমুখি তর্কে জড়ান সাংসদ। রাত ২টো নাগাদ অভিষেকের বাড়ি ও অফিসে হামলা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর করল পুলিশ।
এদিকে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনের মাঝরাতে উদযাপনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কালীঘাট। শনিবার রাত ২টো নাগাদ অভিষেকের বাড়ি ও অফিসে হামলার অভিযোগে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন কিছু পুলিশকর্মীও। পুলিশকে চড় মারার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ এই দু’জন বিজেপি সমর্থক। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কালীঘাট থানায় মোট চারটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একটি এফআইআরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের নামও রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে রাত ২টো থেকে সাড়ে ৩টে পর্যন্ত এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের জমায়েত ছিল। তখন তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে বিজেপি সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তার মধ্যে একটি এফআইআরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও রয়েছে। কিন্তু শনিবার দুপুর ১টা নাগাদ পাশের রাস্তায় অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর দফায় দফায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হ্যান্ড মাইক নিয়ে রাজনৈতিক তোপ দাগেন। এভাবেই জন্মদিনে আগলে রাখেন অভিষেককে।
তাছাড়া রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে আরও দুটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় এক বিজেপি সমর্থকের বিরুদ্ধেও একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আবার বিজেপি কর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েকজনের নামেও মামলা দায়ের হয়েছে। শনিবার রাত ২টো নাগাদ নিজের বাড়িতে হামলার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের দাবি, দু’দিন ধরে এলাকায় রেইকি করার পর একদল ব্যক্তি তাঁর বাড়ি-অফিসে হামলা চালিয়েছে। অভিযুক্তদের বিজেপির গুন্ডা বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।