ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট-মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার

Jharkhand Businessman Murder Arrest Two Photo-SNS

ঝাড়খণ্ডের চাণ্ডিলে ব্যবসায়ী নিখার সবলোক খুন হয়েছিলেন। সেই খুনের মামলায় শুক্রবার গ্রেপ্তার হলেন কলকাতা পুলিশের এক সার্জেন্ট এবং মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার। ধৃত সার্জেন্টের নাম অয়ন গুপ্ত এবং মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম টুইঙ্কল দাস। দু’জনেই বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডে কর্মরত। ওই সার্জেন্টের বাবা কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ঝাড়খণ্ডে ব্যবসাযী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে ধৃত সার্জেন্টের কথাবার্তার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি ঝাড়খণ্ড পুলিশের। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয়। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রের খোঁজে মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের বেলেঘাটার বাড়িতেও তল্লাশি চলেছে।

অয়ন গুপ্তের বাড়ি পর্ণশ্রী এলাকায়। টুইঙ্কল দাসের বাড়ি বেলেঘাটার চাউল পট্টি রোডে। এই হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ড পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। জামশেদপুর থেকে রাঁচি যাওয়ার রাস্তায় হোটেল টেনথ মাইলস্টোন-এর সামনে ২৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন ব্যবসায়ী নিখার সবলোক (৩৭)। তিনি জামশেদপুরের বাসিন্দা। ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা-খরসওয়াঁ জেলার কান্ডেরবেরা-আসানবনি রোডের ধারে পিঞ্জরা পাহাড়িয়া এলাকায় সাড়ে তিন একর জমি নিয়ে দুই গোষ্ঠীর বিবাদ চলছিল। তার জেরেই ব্যবসায়ী খুন হন বলে জানিয়েছে জামশেদপুর পুলিশ। খুনের দু’দিন আগে থেকে নিখার সবলোককে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে খুন করতে উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের শার্প শুটারদের ২০ লক্ষ টাকা সুপারি দেওয়া হয়েছিল। খুনের ছক কষা হয়েছিল দুমকা জেল থেকে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

এই সার্জেন্টে অয়ন গুপ্ত এবং মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাস দু’জনকে গতকাল লালবাজারে তলব করা হয়েছিল। লালবাজারের গোয়েন্দা দপ্তরে দু’জনকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেন ঝাড়খণ্ড পুলিশের অফিসাররা। পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় সবটা ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছিল। আর শুক্রবার সকালে ঝাড়খণ্ড পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দু’জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা ওই ব্যবসায়ীকে ৯ রাউন্ড গুলি চালায় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ওই ব্যবসায়ীর কাঁধ, পিঠ এবং গলায় গুলি লেগেছিল। তার জেরেই মৃত্যু হয়। জামশেদপুর পুলিশ সূত্রে খবর, দুই শার্প শুটারের একজন খুনের পরে কলকাতায় পালিয়ে এসে গা-ঢাকা দেয়। ধৃতদের সঙ্গে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ট্র্যাফিক সার্জেন্ট এবং সিভিক ভলান্টিয়ারের যোগাযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের মূলে ছিল অশোক কুমার সিং ওরফে রাঘব। খুনের দিন অশোক কলকাতায় পালিয়ে এসে বেলেঘাটা এলাকায় একটি বাড়িতে গা-ঢাকা দেয়। ঝাড়খণ্ড পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, অশোক এই রাজ্যে আসার আগে কলকাতার দু’জনের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যপে চ্যাট করেছে। বাকি ধৃতদের সঙ্গেও কথা বলেছে ওই দু’জন। ঝাড়খণ্ড পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, এদের মধ্যে একজন কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট এবং অন্যজন সিভিক ভলান্টিয়ার। এই দু’জনই অশোককে কলকাতায় থাকার ব্যবস্থা করে দেয়।


তাছাড়া ব্যবসায়ী খুনের তদন্তে নেমে ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের নানা জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এই ৬ জনের মধ্যে পেশাদার খুনিও আছে। এরপর ঝাড়খণ্ড পুলিশের সিট লালবাজারে পৌঁছয়। কলকাতা পুলিশের অফিসারদের সঙ্গে কথা হয় তাঁদের। লালবাজারের পক্ষ থেকে ওই সার্জেন্ট এবং সিভিক ভলান্টিয়ারকে ডেকে পাঠানো হয়। সার্জেন্টের সঙ্গে অশোকের যোগাযোগকোন সূত্রে তা জানতে চাওয়া হয়। কলকাতায় আসার আগে অশোক তাঁকে কেন ফোন করেছিল? এই প্রশ্নের মুখে পড়ে কথায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তখনই গ্রেপ্তার করা হয় সার্জেন্ট এবং সিভিক ভলান্টিয়ারকে। সিভিক ভলান্টিয়ারের বেলেঘাটার বাড়িতে অশোকের দেহরক্ষীর আগ্নেয়াস্ত্র রাখা ছিল। ওখানে অস্ত্র রেখে অন্য জায়গায় লুকিয়েছিল দু’জন। সুপারি কিলারদের পেমেন্ট গিয়েছে ওই দু’জনের পরিচিতের অ্যাকাউন্ট থেকে বলে সূত্রের খবর। এই বিষয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানান, অভিযুক্তদের ঝাড়খণ্ড পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে গিয়েছে।