পশ্চিমবঙ্গে আগে গণেশ পুজোর তেমন চল ছিল না। তা বলে হতো না তেমন নয়। এখন গণেশ পুজো রাজ্যজুড়ে হয়ে থাকে। আর তার জেরে গণেশের মূর্তির চাহিদাও তুঙ্গে। গণেশ মূর্তির চাহিদা এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে, কুমোরটুলিতে তা বানাতে বানাতে নাওয়া-খাওয়া ভুলে গিয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। কিন্তু এবার এক অভিনব চাহিদা আসতে শুরু করেছে কুমোরটুলিতে। সেটা হল, রাজ সিংহাসন-সহ জমিদার গণেশ চাই। এই চাহিদা মেটাতে এখন কালঘাম ছুটেছে মৃৎশিল্পীদের। কারণ দ্রুততার সঙ্গে এমন মূর্তি গড়ে সরবরাহ করতে হবে। মঙ্গলবার গণেশ চর্তুদশী। এই বছর জমিদার গণেশের চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে কুমোরটুলিতে। বেশিরভাগ মানুষ কুমোরপাড়ায় এসে জমিদার গণেশেরই খোঁজ করছেন।
এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আগে গণেশের একটা ছোট-বড়-মাঝারি মূর্তি নিয়ে যেত মানুষজন। তাও সংখ্যায় খুব কম। এখন একের পর এক পুজো কমিটি গণেশ পুজো করতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গে। তার মধ্যেই জমিদার গণেশের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। আর কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা তা বানিয়েই চলেছেন। এই বিষয়ে মৃৎশিল্পীরা জানান, একেক বছর একেক রকম মূর্তির চাহিদা বেশি আসে। এবার জমিদার গণেশের চাহিদা বেড়েছে। বহু পুজো উদোক্তা এসে জমিদার গণেশের বরাত দিয়েছেন। শিল্পীরা সেই মতো তৈরি করছেন।
এই জমিদার গণেশের চেহারা কেমন? কুমোরটুলিতে পা রাখলেই দেখা গিয়েছে, রাজ সিংহাসনে বসে আছেন ঝলমলে পোশাকে নানা ধরনের অলঙ্কারে সজ্জিত গণপতি। আর তিনিই হলেন জমিদার গণেশ। কোথাও রাজ সিংহাসনে তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে বসে তিনি। আবার কোথাও সিংহাসনের পিছনে বিস্তর কারুকার্য। তবে মূর্তির উচ্চতা ১০ থেকে ১৪ ফুট। কুমোরটুলি মৃৎশিল্প সমিতি সূত্রে খবর, কলকাতা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে বহু মানুষ এসে জমিদার গণেশের বায়না দিয়েছেন। বহু পুজো উদ্যোক্তা কুমোরটুলি থেকে ঢাউস আকারের গণেশ কিনে প্যান্ডেলে নিয়ে গিয়েছেন। বহু মানুষ রবিবারও এসেছিলেন গণেশ কিনতে।
তাছাড়া পটুয়াপাড়ার এখন ব্যস্ততা চরমে উঠেছে। তার মাঝেই এদিন বহু তরুণ-তরুণী জমিদার গণেশের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন। এই বিষয়ে মৃৎশিল্পী জবা পাল বলেন, ‘যেহেতু গণেশ চর্তুদর্শী এসে গিয়েছে তাই অনেকে ঠাকুর কিনতে এসেছেন। অন্য বছরের তুলনায় এবার গণেশের বিক্রি ভাল। যা তৈরি করা হয়েছিল তার প্রায় সবটাই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। রবিবারও বাজার ভাল দেখা গেল। বৃষ্টির কারণে আমরা কিছুটা চিন্তার মধ্যে ছিলাম।’