প্রেসিডেন্সি জেলে জঙ্গি আফতাব আনসারির সেল থেকে বাজেয়াপ্ত আইফোন, কোথা থেকে এল?

Presidency Correctional Home Photo-SNS

হাই সিকিউরিটি প্রেসিডেন্সি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের ভিতরে আলোড়ন ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটল। জেলের ভিতর কুখ্যাত জঙ্গির সেল থেকে মিলল আইফোন-সহ একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস বলে অভিযোগ। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কুখ্যাত জঙ্গি আফতাব আনসারির সেল থেকে উদ্ধার হয়েছে মোবাইল ফোন-সহ একাধিক নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় হয়ে গিয়েছে প্রেসিডেন্সি জেল। আফতাব আনসারির সেলে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে তিনটি মোবাইল। তার মধ্যে একটি আইফোন বলে সূত্রের খবর। এমনকী সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩১ হাজার টাকাও। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হেস্টিংস থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার ভিত্তিতে শুরু হয়েছে মামলা।

প্রেসিডেন্সি জেল সূত্রে খবর, গোপন অভিযান চালিয়ে আফতাবের সেল থেকে একটি আইফোন, আরও দুটি স্মার্টফোন, ওটিজি কেবল এবং একটি কার্ড রিডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। হাই সিকিউরিটিতে মোড়া একটি সংশোধনাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দির সেলে কেমন করে এমন অত্যাধুনিক গ্যাজেট পৌঁছল? কার কাছ থেকে তা জেলে ঢুকল? কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল এই কুখ্যাত জঙ্গি? এমনকী জেলে ঢুকল কেমন করে এসব সরঞ্জাম? এইসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় কারা কর্তৃপক্ষ। আর তাই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন জেল আধিকারিকরা। গোটা ঘটনার তদন্ত করে দেখবে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী আফতাব জেলের ভিতর থেক মোবাইলে কথা বলছে বলে তথ্য এসেছিল গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। এমনকী ইচ্ছামতো ইন্টারনেটও ব‌্যবহার করছিল জঙ্গি আফতাব। জেলের ভিতরে বসে রীতিমতো আফতাব আনসারি হোয়াটস অ‌্যাপ এবং টেলিগ্রাম কলে যোগাযোগ রাখছিল। সেই তথ্যও হাতে আসে। কিন্তু কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল সেটা হাতে আসেনি। পাকিস্তানে আফতাব কল করত কিনা এখন সেই তথ‌্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। পুলিশই এমন খবর দেয় প্রেসিডেন্সি জেল কর্তৃপক্ষকে। তারপরই চলে গোপন অভিযান। পুলিশের খবরের সূত্র ধরেই জেলের ১৪ নম্বর সেলে তল্লাশি চালান কারা আধিকারিকরা। আর তখনই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর ঘটনা।


উল্লেখ্য, কলকাতার মার্কিন দূতাবাসে হামলার মূলচক্রী আফতাব আনসারি বহুদিন ধরেই প্রেসিডেন্সি জেলের হাই সিকিউরিটি সেলে বন্দি আছে। কিন্তু জেলের ওই কড়া নজরদারি এড়িয়ে তার কাছে গিয়েছে আইফোন-সহ অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। তাই ওই সংশোধনাকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমেছেন কারা দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তাছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে জেলের কর্মীরা জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই গত ১৫ মে প্রেসিডেন্সি জেলে ‘ঘুঘুর বাসা’ আছে বলে জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তা ভাঙতে তৎপর হন তিনি। এমনকী প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার এবং চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করা হয়। সিআইডি তদন্তেরও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এতকিছুর পরও কুখ্যাত জঙ্গির সেল থেকে মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত হওয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।