যৌনকর্মীদের সন্তানদের স্বনির্ভর করে তুলতে তাদের এআই প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিল ‘আমরা পদাতিক’ এবং ‘লে রিদিম’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা। আগামী ৮ অক্টোবর মধ্য কলকাতার মহাজাতি সদনে যৌথ ভাবে এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের ঘোষণা করা হবে। প্রাথমিক ভাবে কলকাতায় পরীক্ষামূলক ভাবে এই প্রশিক্ষণ শুরু হবে।
রাজীব মুখোপাধ্যায়, ‘লে রিদিম’-এর সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, দ্য স্টেটসম্যান এবং দৈনিক স্টেটসম্যানকে বলেন, ‘দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ ছেলেমেয়েদের এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে ১৮ বছর বয়সের আগে কর্মসংস্থান নয়। গত এক বছরে ‘লে রিদিম’ এক হাজারেরও বেশি ছেলে মেয়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে’।
প্রাথমিক ভাবে অন্তত ৩০ জনকে নিয়ে এই প্রশিক্ষণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। যৌথ এই উদ্যোগে প্রশিক্ষণের পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি কোনও কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্র ভাড়া নিয়ে সেখানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হতে পারে। তবে এই প্রশিক্ষণের জন্য ছাত্রছাত্রীদের কোনও অর্থ দিতে হবে না।
উদ্যোক্তাদের দাবি, শুধু যৌনকর্মীদের সন্তান নয়, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদেরও ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজীব মুখোপাধ্যায় জানান, স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের পরিধি আরও বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। তাঁদের মতে, সামাজিক ও আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণটি সংশ্লিষ্ট তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সারা দেশে লে রিদিমের ২১টি কেন্দ্র রয়েছে যেখান থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ রাজ্যেও রয়েছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ১৮ বছর ধরে সামাজিক উন্নতির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে যুক্ত। এবার হাতে নতুন চ্যালেঞ্জ।
‘আমরা পদাতিক’-এর অ্যাডভোকেসি অফিসার মহাশ্বেতা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যৌনকর্মীদের জীবনের যে অন্ধকার বা অনিশ্চয়তা রয়েছে, তার প্রভাব যেন তাঁদের সন্তানদের জীবনে না পড়ে, সেটাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সন্তানদের শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষ করে তুলে তাঁদের নিজের পায়ে দাঁড় করানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রথম পর্যায়ে কলকাতায় পরীক্ষামূলক ভাবে প্রকল্পটি চালু হলেও ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পড়াশোনা শেষ করা তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা তৈরি করে তাঁদের জন্য কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।