এই বছরের মতো দুর্গাপুজোয় ইতি পড়েছে। বিজয়া দশমী হয়ে যাওয়া মানে পুজো শেষ। এখন মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সিঁদুরখেলা। তবে মন ভারাক্রান্ত। এই বছর দু’দিন সপ্তমী পড়লেও দুর্গাপুজো আমেজ কাটাতে পারছে না বাঙালি। দুর্গাপুজো আসছে এটা যে আনন্দ দিচ্ছিল শেষ হয়ে যাওয়াতে মন খারাপ হচ্ছে সকলের। এই আবহে একটা খুশির খবর সামনে এল। আগামী বছর পঞ্জিকার সম্ভাব্য নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের দুর্গাপুজোয় থাকছে দু’দিন অষ্টমী তিথি। সুতরাং দুর্গাপুজোর আনন্দ উপভোগ করার জন্য মিলবে বাড়তি একটি দিন। মন খারাপের মধ্যেই তাই দুর্গাপুজোর দিনক্ষণ ঘিরে এখন থেকেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে বাঙালির মনে।
মন খারাপ হলেও ২০২৭ সালের দিকে তাকিয়ে এখন মাকে বিদায় জানাতে চলেছেন সকলে। বুধবার থেকে বিসর্জন শুরু হয়েছে। ‘বলো দুর্গা মাইকি, আসছে বছর আবার হবে’-এই আওয়াজ তুলে এখন নিজেদের ভারাক্রান্ত মন শান্ত করার চেষ্টা করছেন বাঙালিরা। ২০২৭ সালের দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট কেমন থাকছে? সেটা সকলে দেখতেও শুরু করেছেন। পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে মহালয়া পড়ছে ২৯ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ, পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হবে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে। তার পর অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে দুর্গাপুজো। মহাষষ্ঠী ৫ অক্টোবর। ৬ অক্টোবর মহাসপ্তমী। ৭ অক্টোবর, মহাষ্টমী। তবে আগামী বছরের দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্টে ৮ অক্টোবরও অষ্টমী তিথি এবং সন্ধিপুজোর পর্ব থাকছে। সুতরাং ৭ ও ৮ অক্টোবর দু’দিন ধরেই অষ্টমী উপভোগ করা যাবে।
দু’দিন অষ্টমীর কথা জানতে পেরে বাঙালির ভারাক্রান্ত হৃদয় শান্ত হয়েছে। বাড়তি দিন পেলে ভাল তো লাগবেই। তাই সবার ভাল হোক এই কামনা করে আবার বাঙালি ফিরতে চলেছে কর্মজীবনে। বৃহস্পতিবার থেকে অফিস-কাছারি খুলে যাবে। তবে সরকারি অফিস আর কদিন পর খুলবে। বেসরকারি অফিস খুলে যাবে রাত পোহালেই। শুরু হয়ে যাবে ব্যস্ততার জীবন। তবে ২০২৭ সালের ৯ অক্টোবর, শনিবার নবমী। আর ১০ অক্টোবর রবিবার দশমী। সুতরাং মাসের শুরুতেই দুর্গাপুজো শেষ। দুটি অষ্টমী পড়লেও তখনও বাঙালির হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে উঠবে। কারণ মাসের শুরুতেই শেষ হয়ে যাবে দুর্গাপুজো।
তাছাড়া বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত, বেনীমাধব শীল এবং গুপ্ত প্রেসের মতো নানা পঞ্জিকায় তিথি গণনা এবং নির্ঘণ্টে পার্থক্য থাকতে পারে। বিশেষ করে অষ্টমী, সন্ধিপুজো এবং নবমীর সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পঞ্জিকার চূড়ান্ত হিসেব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগামী বছরের দুর্গাপুজোর সময়সূচি দেখেই আনন্দে মাতবে আপামর বাঙালি।