যাদবপুরের ৮বি-তে ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’, বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা শুভেন্দুর

Photo: Statesman

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহেই ঘটনার ন’দিন পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিজেপির বড় কর্মসূচি। রাখি পূর্ণিমার দিন শুক্রবার যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডের সামনে ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই মঞ্চ থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, সেখানে ওঠা বিভিন্ন স্লোগান এবং জাতীয়তাবাদ নিয়ে সরব হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

যাদবপুর থানা থেকে সুকান্ত সেতুর মুখ পর্যন্ত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দীর্ঘ রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ একসঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ গান করেন। ৮বি মোড়ে তৈরি হয়েছিল মূল মঞ্চ। সেখান থেকেই বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাখিপূর্ণিমার দিনে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দেশপ্রেমকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচির আয়োজন। তাঁর কথায়, ‘আজ আমাদের দেশপ্রেমকে অটুট এবং শক্তিশালী করার জন্য ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরমের আহ্বান জানিয়েছিলাম। অনেক দূর থেকে আসতে আসতে দেখেছি, কেউ বৃষ্টিতে ভিজে, কেউ গাছের নীচে আশ্রয় নিয়ে এই পবিত্র মাটিতে দেশপ্রেম জাগ্রত করার জন্য বন্দে মাতরম উচ্চারণ করতে এসেছেন।’


এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত দলীয় নেতা ও সহযোগীদের ধন্যবাদও জানান শুভেন্দু। স্বপন দাশগুপ্ত, তাপস রায়, কল্যাণ চক্রবর্তী, ইন্দ্রনীল খাঁ-সহ একাধিক নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করেন তিনি। বিজেপির দাবি, এর আগে রাজ্যের প্রায় চার হাজার জায়গায় রাখি উৎসব পালন করা হয়েছে।

তবে যাদবপুরের ৮বি-র মঞ্চ থেকে শুভেন্দুর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়েই ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম আমল থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রভাবে থেকেছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ হিসেবে উল্লেখ করলেও সেখানে জাতীয়তাবাদ এবং দেশের সাংস্কৃতিক পরম্পরা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

কলাবিভাগের দেওয়ালে কেন ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’ লেখা থাকে, কেন সেখান থেকে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজ়াদি’-র মতো স্লোগান ওঠে, সেই প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘কলকাতার রাস্তায় যখন আজ়াদি-আজ়াদি দেখি, তখন কষ্ট হয়। কিসের আজ়াদি ভাই? আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগ, নেতাজির লড়াই, মাতঙ্গিনী হাজরার বলিদান মনে রাখতে হবে। ভারত তো ১৯৪৭ সালেই স্বাধীন হয়ে গিয়েছিল।’

কাশ্মীর প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘যে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সঙ্গে এত যুদ্ধ ও লড়াই হয়েছে, সেই কাশ্মীরের নামেই ‘আজ়াদি’র স্লোগান ওঠা অত্যন্ত পীড়াদায়ক।’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাবিভাগের দেওয়ালে লেখা বিভিন্ন স্লোগান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীতের বিভিন্ন ঘটনা প্রসঙ্গেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ক্যাম্পাসে বিরোধী মতকে বার বার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের ধমকানো বা ভয় দেখানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। এবিভিপি-র কর্মী-সমর্থকদের আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর বিরুদ্ধেও সরব হন শুভেন্দু। গেরুয়া রং নিয়ে বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘স্বামী বিবেকানন্দের গায়েও গেরুয়া ছিল। মন্দিরের মাথায় গেরুয়া ধ্বজা রয়েছে।’ দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য থেকে নতুন প্রজন্মকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, শুধু নিজের পরিবারের দায়িত্ব নিলেই হবে না, দেশকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। আগামী দিনে দেশের প্রতিটি স্কুল ও কলেজে এনসিসি বাধ্যতামূলক করার পক্ষেও সওয়াল করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এ রাজ্যে এনসিসি বন্ধ করে জয়হিন্দ বাহিনী চালু করা হয়েছিল, যা ঠিক হয়নি।