শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও স্ত্রী ধন আত্মসাতের অভিযোগ দায়ের করার প্রায় এক মাস পর আত্মীয়দের সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে নিজের জিনিসপত্র নিতে গিয়েছিলেন এক মহিলা। সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে তাঁর ও পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, মারধর ও ভয় দেখানোর মামলা। এমনই এক ঘটনায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
মামলার নথি খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট সেই ফৌজদারি কার্যবিধিই বাতিল করে দিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ, স্ত্রী ধন উদ্ধারের মতো বৈধ উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও স্ত্রী তাঁর বৈবাহিক বাড়িতে প্রবেশ করলে শুধু সেই প্রবেশের ভিত্তিতে তাঁকে ‘হাউস-ট্রেসপাসার’ বা অনধিকারপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। হাউস-ট্রেসপাসের জন্য প্রয়োজনীয় অপরাধমূলক অভিপ্রায়ও এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে মনে করেছে আদালত।
এর একটি ‘টেক্সট বুক প্রিন্টার হিসেবে চিহ্নিত করেছে, অর্থাৎ, এক পক্ষের ফৌজদারি অভিযোগের পাল্টা হিসেবে অন্য পক্ষের তরফে মামলা দায়েরের প্রবণতা। শুধু অনধিকার প্রবেশের অভিযোগই নয়, মারধরের দাবিও আদালতের নজরে প্রশ্নের মুখে পড়ে। অভিযোগের সমর্থনে কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি বা আঘাতের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ভয় দেখানোর অভিযোগগুলিও ছিল অস্পষ্ট ও নির্দিষ্ট তথ্যহীন।
পুলিশি তদন্ত নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। তদন্তকে অত্যন্ত দায়সারা ও যান্ত্রিক বলে মন্তব্য করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আদালতের মতে, এই পরিস্থিতিতে ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যাওয়া ন্যায়বিচারের স্বার্থে নয়, বরং তা আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহারে পরিণত হবে। সেই কারণেই স্ত্রী ও তাঁর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর, চার্জশিট এবং পরবর্তী ফৌজদারি কার্যবিধি সবই বাতিল করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
আরও পড়ুন: বিনা বিচারে দু’বছর জেলে, এখনও গঠন হয়নি চার্জ, ২ অভিযুক্তকে জামিন হাইকোর্টের
রায়ে স্পষ্ট বার্তা, বৈবাহিক সম্পর্কে বিচ্ছেদ, বিরোধ বা আইনি লড়াই তৈরি হতে পারে। কিন্তু নিজের স্ত্রী ধন ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি উদ্ধারের বৈধ অধিকারকে শুধুমাত্র সেই কারণে অপরাধ হিসেবে দেখানো যায় না।