এবার রাজ্যে বিজেপি সরকার এসেছে। তাই দুর্গাপুজোর সময় মদ বিক্রি হোক তা চায়নি রাজ্য সরকার। এই কারণে মহাষ্টমী তিথিতে ড্রাই ডে রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ সেদিন রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান বন্ধ ছিল। এমনকী বার পর্যন্ত বন্ধ ছিল। যাতে ওইদিন মদ কিনতে বা পান করতে না পারেন সুরাপ্রেমীরা। কিন্তু তারপরও দেখা গেল, রাজ্যে গতবারের তুলনায় মদ বিক্রি বেড়েছে। আসলে সুরাপ্রেমীরা আগে থেকেই মদ কিনে রেখেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। ওই দিন ঠেকানো গেলেও তার আগে পরে বেয়ারা চালাও ফোয়ারা বলে মদ্যপানের তুফান উঠেছিল।
দুর্গোৎসবের মরশুমে মদ বিক্রি তুলনামূলক বৃদ্ধি পায় প্রত্যেক বছর। সেখানে এবার অষ্টমী তিথিতে ছিল ‘ড্রাই ডে’। তাই ধরে নেওয়া হয়েছিল, এবার মদ বিক্রি কম হবে। কারণ ওই দিন কোথাও মদ পাওয়া যাবে না। কিন্তু তারপরও দেখা গেল, বাড়ল মদ বিক্রি। শুধু তাই নয়, মদ বিক্রির নিরিখে শীর্ষস্থান দখল করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। এই জেলা থেকেই নির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে ড্রাই ডে ঘোষণার পরও এমন তথ্য সামনে আসায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রত্যেকদিন গড়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছে বলেই খবর।
এই তথ্য প্রমাণ করে যে, ড্রাই ডে থাকলেও সুরাপ্রেমীদের বিপাকে ফেলা যায়নি। বরং দেদার ফোয়ারা উঠেছে মদের। এমনকী তা পান করে অনেকেই গেয়ে উঠেছেন, এই তো জীবন, যাক না যেদিকে খুশি যেতে চায় প্রাণ। আবার কাউকে গাইতে শোনা গিয়েছে, করুক মাথা ঝিম ঝিম। সুতরাং সব বয়সের মানুষজনই মদ কিনেছেন বলে স্পষ্ট হচ্ছে। জেলা আবগারি দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে দুর্গাপুজোর সময়ে মদ বিক্রি হয়েছে ৩৩ কোটি টাকার। এবার ৫২ কোটি ৭১ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। যা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ১৯ কোটি টাকার বেশি। মদ ব্যবসায়ীদের দাবি, রাজ্যে এবার অষ্টমীর দিন মদের দোকান বন্ধ ছিল। বন্ধ না থাকলে বিক্রির পরিমাণ ৬০ কোটি টাকার ছাড়িয়ে যেতে পারত।
তাছাড়া মদ বিক্রি থেকে রাজস্ব আয় বেশি হয় সরকারের। সেটাও হয়েছে। দুর্গাপুজোয় বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছিল ২০২৫ সালে ২ লক্ষ ২৮ হাজার লিটার। সেটা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ১৩ হাজার লিটার। দেশি মদের বিক্রিও বেশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের দুর্গাপুজোর সময় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার লিটার দেশি মদ বিক্রি হয়েছিল। ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় ৪ লক্ষ ৬০ হাজার লিটার মদ বিক্রি হয়েছে। এমনকী বিয়ারের বিক্রি ২০২৫ সালের দুর্গাপুজোয় হয়েছিল ৩ লক্ষ ১০ হাজার লিটার। সেটা ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় বেড়ে হয়েছে ৩ লক্ষ ২৪ হাজার লিটার। তবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দিঘা, মন্দারমণির মতো একাধিক পর্যটনকেন্দ্র থাকায় দুর্গাপুজোয় পর্যটকরা এসে দেদার মদ কিনেছেন বলেই সূত্রের খবর।