প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পিএমও থেকে আসছি। এমনই পরিচয় দিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন নবান্নে। যদিও ওই পরিচয় ছিল ভুয়ো। এমন ভুয়ো অফিসারের পরিচয় দিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্নে ঢুকে পড়েছিলেন রহস্যময়ী নারী আকাঙ্খা বিদ্যার্থী। তার পর নবান্নে পূর্ত দপ্তরের অফিসারদের কাছে তথ্য জানার চেষ্টা করেন ওই রহস্যময়ী। এরপর সেখান থেকে চম্পট দেন তিনি। যদিও শেষরক্ষা হয়নি। কারণ হাওড়া সিটি পুলিশের একটি বিশেষ টিম নয়াদিল্লি থেকে ওই রহস্যময়ীকে চিহ্নিত করে জেরা শুরু করেছে। নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। পূর্তদপ্তরের মন্ত্রীর সঙ্গে দেখাও করেন। তবে খটকা লেগেছিল মন্ত্রীর।
কথা বলে সন্দেহ হওয়ায় তাঁর পরিচয় যাচাই শুরু করা হয়। তখনই কাউকে কিছু না বলেই উধাও হয়ে যান লাস্যময়ী! যদিও পালিয়ে শেষরক্ষা হল না। ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই গ্রেপ্তার করা হয় নয়াদিল্লি থেকে। ওই রহস্যময়ী নারী কে? কেন নবান্নে এসেছিলেন? নেপথ্যে কি বড় ষড়যন্ত্রের ছক? এবার সবটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আগে থেকে সাক্ষাৎকারের সময় নিয়েই বুধবার নবান্নের পূর্ত দপ্তরে আসেন আকাঙ্খা বিদ্যার্থী। নিজেকে পিএমও-র অফিসার পরিচয় দিয়ে তিনি দপ্তরের কর্তাদের কাছে নানা প্রশাসনিক তথ্য জানতে চান। তবে তাঁর কথা এবং হাবভাবে সন্দেহ লাগে বলেই খোঁজ শুরু করে পুলিশ। আর তা টের পেয়েই ওই রহস্যময়ী নারী দ্রুত নবান্ন থেকে বেরিয়ে যান। ভুয়ো পরিচয় নিশ্চিত হতেই পূর্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে হাওড়া সিটি পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ড. আকাঙ্ক্ষা বিদ্যার্থী নবান্নে যান। নিজেকে পিএমও কর্মী পরিচয় দিয়ে পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী অজয় পোদ্দারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। নবান্নে সাক্ষাতের সময় তাঁর কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হয় মন্ত্রীর। তৎক্ষণাৎ তিনি ওই নারীর পরিচয় যাচাই করার উদ্যোগ নেন। তবে সামান্য সময়ের মধ্যেই উধাও হয়ে যান ওই রহস্যময়ী। যদিও খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় ওই মহিলার দাবি মিথ্যে। রাতেই শিবপুর থানায় বিএনএস-এর ৩১৯(২)/২০৪/৩৪০(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
তাছাড়া নবান্ন থেকে অভিযোগ পেয়েই হাওড়া সিটি পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করে রাত থেকেই একাধিক স্থানে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়। প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে নজরদারির মাধ্যমে নয়াদিল্লিতে ওই আকাঙ্খা বিদ্যার্থীর সন্ধান মেলে। এখন হাওড়া সিটি পুলিশের বিশেষ দল সেখানে তাঁকে দফায় দফায় জেরা করছে। ওই নারী ঠিক কোন উদ্দেশ্যে নবান্নে এসে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন এবং তাঁর পিছনে বড় কোনও আন্তঃরাজ্য চক্র জড়িত আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ওই মহিলা কলকাতা ছেড়ে বিমানে করে নয়াদিল্লিতে নিজের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। শিবপুর থানার পক্ষ থেকে বুধবার রাতেই একজন মহিলা সাব-ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে একটি দলকে নয়াদিল্লিতে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল দিল্লির বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।