রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে কলকাতাকে একেবারে ঢেলে সাজাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার ট্রাফিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কন্ট্রোল রুম চালু করল শুভেন্দু সরকার। শুক্রবার সল্টলেকের আরক্ষা ভবন থেকে এই কন্ট্রোল রুম তিনি উদ্বোধন করেন। সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকার দার্জিলিংয়ে ৬ কোটি টাকার কাজ করেছিল। আমরা চার মাসের মধ্যে ৪৬৫টি স্কিমে ২৪৯ কোটি টাকা দিয়েছি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ফান্ড থেকে।’
শুধু তাই নয়, শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্য বাজেট বরাদ্দ থেকে ৩৬০ কোটি টাকার যে বাজেট নির্ধারণ রয়েছে, তার মধ্যে ৬৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসক মহান্তির নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এদিন গোটা রাজ্যের ট্রাফিক নজরদারি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পলশুণ্ডা, ফরাক্কা, পালসিট, ডানকুনি ও ধূলাগড় চেকপোস্টের লাইভ দৃশ্য দেখে বেশ কিছু জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজ্যে কৃত্রিম যানজট বা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন আটকানোর জন্য সাধারণ মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য একটি বিশেষ টোল-ফ্রি নম্বর (১৮০০ ৩৪৫ ৮৯২২) চালু করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পরে হোয়াটসঅ্যাপ, ইমেল এবং ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপও আনা হবে। সেই সঙ্গে দুর্গাপুজোর আগেই বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য ও জাতীয় সড়ক মেরামতে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে লাইন ডিপার্টমেন্ট এবং জেলা স্তরে ডিএম-এসপিদের সমন্বয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্ধমানের পালসিট, হুগলির ডানকুনি, মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা, মালদার কালিয়াচক, উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলা ইসলামপুর এলাকায় রাত নয়টার পর ট্র্যাফিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এর পিছনে কী কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।’ দার্জিলিং, কালিম্পং এলাকায় অধিকাংশ রাস্তায় গাড়ি পার্ক করে রাখা হয়। পার্কিং লট তৈরির জন্য জেলাশাসক, এস পি ও জিটিএ কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে নতুন ট্রাফিক কিয়স্ক করা, পুরোনো কিয়স্কগুলি চালু করা, রাস্তা সারাই, নতুন ট্রাফিক সিগন্যাল, ব্যারিয়ার লাগানো, অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।