নতুন রেশন কার্ড করতে হলে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা সরকারি দফতরে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। বাড়িতে বসেই অনলাইনে নতুন রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে এই পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে। নতুন পরিবারের জন্য রেশন কার্ডের আবেদন থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যের নাম সংযোজন এবং বিভিন্ন তথ্য সংশোধন—একাধিক কাজই করা যায় অনলাইনে।
কী ভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন?
প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের সরকারি রেশন কার্ড পোর্টালে যেতে হবে। সেখানে ডিজিটাল রেশন কার্ড সংক্রান্ত পরিষেবার মধ্যে ‘নতুন পরিবারের জন্য নতুন রেশন কার্ডের আবেদন’ বিকল্পটি বেছে নিতে হবে।
এর পর আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং আধার সংক্রান্ত তথ্য-সহ প্রয়োজনীয় বিবরণ নির্ভুল ভাবে পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্রে নাম, বয়স এবং জন্মতারিখ আধার বা জন্ম শংসাপত্রে থাকা তথ্য অনুযায়ী দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
শুধু আবেদনকারীর তথ্য দিলেই হবে না। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রয়োজনীয় বিবরণও দিতে হবে। আবেদনপত্রে চাওয়া নথি ও তথ্য যথাযথ ভাবে জমা দেওয়ার পর আবেদনটি জমা করতে হবে।
আবেদনের পর কী হবে?
আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট দফতর আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য এবং যোগ্যতা যাচাই করবে। আবেদনের অগ্রগতি জানার জন্য অনলাইনেই অবস্থান দেখার সুবিধা রয়েছে। ফলে আবেদন জমা দেওয়ার পর বার বার সরকারি দফতরে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
আবেদন অনুমোদিত হলে ডিজিটাল রেশন কার্ড সংক্রান্ত পরিষেবাও পাওয়া যাবে। সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে ই-রেশন কার্ড ডাউনলোড করার সুবিধাও রয়েছে।
অনলাইনে সমস্যা হলে কী করবেন?
অনলাইনে আবেদন করতে কোনও সমস্যা হলে অফলাইনেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পরিবারের রেশন কার্ডের জন্য নির্দিষ্ট আবেদনপত্র ব্যবহার করতে হয়। গ্রাম ও শহরাঞ্চলের জন্য রয়েছে পৃথক আবেদনপত্র। প্রয়োজনীয় ফর্ম সংশ্লিষ্ট খাদ্য পরিদর্শকের দফতর অথবা রেশনিং দফতরে জমা দেওয়া যায়।
ফলে নতুন রেশন কার্ডের প্রয়োজন হলে প্রথমেই অনলাইনে আবেদন করার সুযোগটি দেখে নিতে পারেন। তবে আবেদন করার সময় মোবাইল নম্বর-সহ সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য নির্ভুল ভাবে দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি প্রতারণা এড়াতে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করাই নিরাপদ।