এবার গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে কলকাতার দমদম এলাকায়। নিজের বাড়ি থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ওই বধূর কম্বল মোড়ানো রক্তাক্ত দেহ। তবে নিহত গৃহবধূর শরীরে একাধিক ধারাল অস্ত্রের কোপানোর চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই ঘটনার নৃশংসতা এবং প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ এখন স্পষ্ট নয়। এটা ভাড়াবাড়ি যেখানে থাকতেন বধূ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বেদিয়াপাড়ার ঝিল কলোনি এলাকার বাসিন্দা এক যুবক প্রায়ই ওই বধূর বাড়িতে আসতেন। এখন ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে বধূর মৃত্যুরহস্যের জট ছাড়াতে চাইছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার এই নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত গৃহবধূর নাম জয়া দত্ত (৩২)। বধূর রক্তাক্ত অবস্থায় দেহটি উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। মৃতদেহের গলা ছাড়াও শরীরের একাধিক জায়গায় গভীর ক্ষত এবং কোপানোর দাগ পাওয়া গিয়েছে। এটা থেকে স্পষ্ট যে বধূ জয়াকে অত্যন্ত নৃসংশভাবে খুন করা হয়েছে।
এদিন বধূ হত্যার তদন্তের রহস্য উদঘাটন করতে এলাকা সংলগ্ন সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ। সেখান থেকে পুলিশ দেখতে পায়, বাড়ির কাছাকাছি থাকা সিসি ক্যামেরা ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে খুনিদের সুপরিকল্পিত চক্রান্তের ইঙ্গিত মিলছে। হত্যার আগে বধূকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, জয়া দেবীর তিন বছরের একটি পুত্রসন্তান আছে। তবে কর্মসূত্রে জয়া নানা জায়গায় যেতেন বলে শিশুসন্তানকে শ্যামবাজারে একজনের বাড়িতে রেখে আসতেন। বুধবার রাতে ওই সন্তানকে নিয়ে দমদম ক্যান্টনমেন্টের ভাড়াবাড়িতে ফেরার কথা ছিল জয়ার। কিন্তু ফোন করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তখন যোগাযোগ করা হয় কয়েকজন পরিচিতের সঙ্গে। তাঁরা এলাকায় এসে খোঁজ নেন। ভাড়াবাড়ির দরজা খুলে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে কম্বলে রক্তাক্ত অবস্থায় জয়া পড়ে রয়েছেন।
তাছাড়া নিহত জয়া দত্ত তাঁর স্বামীর সঙ্গে থাকতেন না। একমাত্র ছেলে তাঁর সঙ্গেই ওই বাড়িতে থাকত। ব্যক্তিগত বা সম্পর্কের কোনও জটিলতার জেরেই এই নৃশংস খুন ঘটে থাকতে পারে। এই ঘটনার মূল কারণ এবং নেপথ্যে কারা যুক্ত আছে তা স্পষ্ট করতে আটক যুবককে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়েছে পুলিশ। সেখানে ময়নাতদন্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে এটিকে খুনের ঘটনা বলেই মনে করছে পুলিশ। জয়া এসকর্ট গার্ল হিসেবে কাজ করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।