কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ। বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর ক্ষতিপূরণ পেতে পরিবারকে আর দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হবে না। মৃত বন্দির উত্তরাধিকারী বা আইনগত প্রতিনিধিদের চিহ্নিত করে দ্রুত ক্ষতিপূরণের টাকা পৌঁছে দিতে হবে।
সংশোধনাগারে বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দিতে অযথা দেরি করা যাবে না। মৃত বন্দির উত্তরাধিকারী বা আইনগত প্রতিনিধিদের চিহ্নিত করে তাঁদের হাতে দ্রুত টাকা তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি আর্যক দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘West Bengal Correctional Services Prisoners (Unnatural Death Compensation) Scheme, 2019’ অনুযায়ী সংশোধনাগারে অস্বাভাবিক ভাবে মৃত্যু হওয়া বন্দিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব সংশোধনাগার দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের।
স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি মৃত বন্দিদের উত্তরাধিকারী এবং আইনগত প্রতিনিধিদের বিষয়ে যে তথ্য সংগ্রহ করেছে, তা দ্রুত সংশোধনাগার দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কাছে পাঠাতে হবে। সেই তথ্য যথেষ্ট হলে আর কোনও অযথা বিলম্ব না করে ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে হবে, নির্দেশ আদালতের।
তবে কোনও বন্দির উত্তরাধিকারী বা আইনগত প্রতিনিধির পরিচয় নিয়ে তথ্য অসম্পূর্ণ বা অস্পষ্ট থাকলে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাচ্ছে না, তার কারণ লিখিত ভাবে জানাতে হবে। সেই তথ্যও পেট লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটিকে জানাতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালতের নজরে এসেছে, রাজ্য লিগ্যাল সার্ভিস এখনও পর্যন্ত ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের তথ্য নিয়েই কাজ করেছে। সেই রিপোর্টে এমন একাধিক বন্দির উল্লেখ রয়েছে, যাঁদের উত্তরাধিকারী বা আইনগত প্রতিনিধিদের এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত সংশোধনাগারে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের সম্পূর্ণ তালিকা দ্রুত রাজ্য লিগাল সার্ভিসকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে সংশোধনাগারে কোনও বন্দির মৃত্যু হলে সেই তালিকাও নিয়মিত আপডেট করতে হবে। পাশাপাশি মৃত বন্দিদের উত্তরাধিকারী ও আইনগত প্রতিনিধিদের চিহ্নিত করার কাজ চালিয়ে যেতে হবে SLSA-কে। সংগৃহীত তথ্যও নিয়মিত সংশোধনাগার দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কাছে পাঠাতে হবে।
শুনানিতে উঠে আসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও। সংশোধনাগারের পরিস্থিতি এবং Open Correctional Institutions (OCI)-এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে নজরদারির জন্য রাজ্যগুলিকে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। কলকাতা হাইকোর্টকে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যেও সংশ্লিষ্ট মনিটরিং কমিটি ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে।
এদিন মামলার অ্যামিকাস কিউরি সংশোধনাগারের ‘অমানবিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর বক্তব্য, সংশোধনাগারগুলির পরিস্থিতিতে এখনও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তবে সংশোধনাগার সংক্রান্ত একাধিক জনস্বার্থ মামলাকে আলাদা করে শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বিচারপতিদের বক্তব্য, একই বিষয় নিয়ে মামলাগুলি আলাদা করে শুনলে কাজের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু থেকে ক্ষতিপূরণ, উত্তরাধী খোঁজা, তথ্য পাঠানো এবং টাকা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াতেই এবার গতি আনার বার্তা দিল কলকাতা হাইকোর্ট।