রাজ্যের সংশোধনাগারে মৃত্যু, বন্দিদের ক্ষতিপূরণ, কর্মীসংকট, অতিরিক্ত ভিড় এবং নারী বন্দিদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মোহাম্মদ শাব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে একাধিক বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টে জমা পড়া রিপোর্টে ২০২২ সাল থেকে ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত হেফাজতে মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হলেও আদালত জানায়, ১ জানুয়ারি, ২০১৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ পর্যন্ত সময়ের তথ্যও পরবর্তী রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।আদালত আরও নির্দেশ দেয়, ১ জানুয়ারি, ২০১৬ থেকে ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত জেলার ভিত্তিতে হেফাজতে মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তালিকা, মৃতদের নাম ও ঠিকানাসহ, ৩১ জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের (State Legal Services Authority) সদস্য-সচিবের কাছে জমা দিতে হবে।
আদালত জানায়, মৃত বন্দিদের উত্তরাধিকারী ও আইনানুগ প্রতিনিধিদের চিহ্নিত করে দ্রুত ক্ষতিপূরণ পৌঁছে দিতে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিবদের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থাও করতে হবে। সদস্য-সচিবকে এই ক্ষতিপূরণ বিতরণের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী শুনানিতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মীসংকট নিয়েও আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যের সংশোধনাগারগুলিতে মোট অনুমোদিত পদ ৪,৭৮৯টি হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৩,৩২২ জন। অর্থাৎ ১,৪৬৭টি পদ শূন্য। অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে জানান, দ্রুত এই শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আদালত পরবর্তী রিপোর্টে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সম্ভাব্য সময়সীমা জানাতে বলেছে।
কারাগারগুলিতে অতিরিক্ত ভিড় নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত রাজ্যের ৬১টি সংশোধনাগারে মোট ২৩,৮৮৬ জন বন্দি রয়েছেন, যেখানে অনুমোদিত ধারণ ক্ষমতা ২১,৯২৯ জন। নতুন সংশোধনাগার নির্মাণের যে পরিকল্পনা রাজ্য জানিয়েছে, তার বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তী রিপোর্টে দিতে হবে। একই সঙ্গে সর্বশেষ জনগণনা, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতে বন্দির সংখ্যা বৃদ্ধির পূর্বাভাসও রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
নারী বন্দিদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও আদালত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানতে চেয়েছে, সংশোধনাগারের নারী ও পুরুষ বন্দিদের পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান পথ সিসিটিভির আওতায় রয়েছে কি না এবং নারী বন্দিদের তল্লাশির জন্য আলাদা কক্ষ রয়েছে কি না—সে সম্পর্কেও পরবর্তী রিপোর্ট দিতে হবে।
এছাড়া আদালত বান্ধব তাপস কুমার ভঞ্জ অভিযোগ আভিযোগ করেছেন, হেফাজতে থাকা অবস্থায় কয়েকজন নারী বন্দি যৌনবাহিত সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে এইচআইভি পজিটিভ হয়েছেন। আদালত রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে, এ ধরনের রোগে আক্রান্ত বন্দির সংখ্যা জানাতে হবে এবং তাঁদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।মামলাগুলি আগস্টে কলকাতা হাইকোর্টের মাসিক তালিকায় শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।