বিয়ের আশ্বাসে জেলমুক্তির পথ! ২১ বছরের ছাত্রকে ৬ সপ্তাহের জামিন হাইকোর্টের

Calcutta High Court Photo-SNS

বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচয়, তারপর বন্ধুত্ব থেকে ঘনিষ্ঠতা। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ। সেই সম্পর্কের টানাপড়েনেই শেষ পর্যন্ত জেলবন্দি হতে হয়েছিল ২১ বছরের এক ছাত্রকে। এবার সেই মামলায় এল নতুন মোড়। জামিন পেলে অভিযুক্ত তাঁকে বিয়ে করবেন, ছাত্র ও তাঁর পরিবারের তরফে এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে জানালেন অভিযোগকারিণী। তাঁর পরিবারও এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে বলে আদালতে পেশ করা ই-মেলে উল্লেখ করা হয়। দুই পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে অভিযুক্তকে ছ’সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য।

অভিযুক্ত প্রিয়াংশু সাহার বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৯ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযোগকারিণী ও অভিযুক্ত দু’জনেই একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া। ২০২৬ সালের মার্চ মাস নাগাদ তাঁদের পরিচয় হয়। ক্রমে সেই পরিচয় ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে গড়ায়।

অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান অভিযুক্ত। কিন্তু পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। এরপরেই ২৭ সেপ্টেম্বর বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী। মামলা রুজু হওয়ার পর গ্রেপ্তার হন ছাত্র। ২৯ সেপ্টেম্বর নিম্ন আদালতে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। চার দিনের পুলিশি হেফাজত শেষে ৩ অক্টোবর থেকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন তিনি।


হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়ে অভিযুক্তের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আগে কোনও অপরাধের নজির নেই। তিনি ২১ বছরের ছাত্র, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে স্নাতক স্তরের দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। সামনে সেমেস্টার পরীক্ষা থাকায় জামিনের আবেদনও জানানো হয়। তদন্তের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে বলেও আদালতে জানান তাঁর আইনজীবী।

তবে জামিনের বিরোধিতা করে রাজ্যের তরফে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, মুক্তি পাওয়ার পরে অভিযুক্ত বিয়ের প্রতিশ্রুতি নাও রাখতে পারেন। এই অবস্থায় শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে অভিযোগকারিণীর বক্তব্য। তাঁর আইনজীবী ২৭ অক্টোবরের একটি ই-মেল আদালতে পেশ করেন। সেখানে অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ও তাঁর বাবা-মা জামিন পেলে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছেন। তরুণী এবং তাঁর পরিবারও সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন। আপাতত অভিযোগ নিয়ে আর এগোতে চান না বলেও ই-মেলে জানিয়েছেন তিনি।

দুই পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করেই অভিযুক্তকে সীমিত সময়ের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আদালত। ১০ হাজার টাকার বন্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে দু’জন জামিনদারের শর্তে ছ’সপ্তাহের জন্য মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জামিনদারদের অন্তত এক জনকে স্থানীয় বাসিন্দা হতে হবে।

আরও পড়ুন: অর্ণবের প্রভাবে শহরে স্বস্তির চিত্র, কমল বায়ুদূষণের মাত্রা

বারাসতের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে এই নির্দেশ কার্যকর হবে। সম্পর্কের টানাপড়েন থেকে ফৌজদারি মামলা। আর সেখান থেকে বিয়ের আশ্বাসে আপাতত মুক্তি, এই মামলায় দুই পক্ষের অবস্থানই শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে জামিনের এই নির্দেশকে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। অভিযোগের বিচার বা মামলার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। আপাতত দুই পক্ষের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সীমিত সময়ের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।