কলকাতার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অনেকের সৃষ্টি সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে আজও বাঙালির আবেগ ও নস্টালজিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। কিংবদন্তি সুরকার, গায়ক ও সংগীতব্যক্তিত্ব পঙ্কজ কুমার মল্লিক ছিলেন তেমনই এক নক্ষত্র। তাঁর সুর, কন্ঠ ও সংগীতসাধনার জায়গাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিশেষ উদ্যোগ ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি’-র। এটি পঙ্কজ কুমার মল্লিকের বাড়ির একাংশে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ক্যাফে।
পঙ্কজ কুমার মল্লিকের জীবন, শিল্পকর্ম ও সংগীত ঐতিহ্যকে ঘিরে তৈরি এক স্মৃতিময় সাংস্কৃতিক পরিসর। এর নেপথ্যে রয়েছেন পঙ্কজ কুমার মল্লিকের দৌহিত্র রাজীব গুপ্ত ও দৌহিত্রবধূ ঝিনুক গুপ্ত। তাঁদের লক্ষ্য, পারিবারিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করার সঙ্গে পঙ্কজ কুমার মল্লিকের অসামান্য অবদানকে আরও বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে দেওয়া।
প্রায় শতবর্ষপ্রাচীন আর্ট ডেকো স্থাপত্যের এই বাড়ির কোনায় কোনায় লুকিয়ে রয়েছে এক শিল্পীজীবনের নানা অধ্যায়। ‘লেজেন্ড অ্যান্ড লেগ্যাসি’-র প্রধান আকর্ষণ এখানকার প্রদর্শনী। যেখানে পঙ্কজ কুমার মল্লিকের ব্যক্তিগত স্মারক, সংগীতসাধনার নিদর্শন এবং দীর্ঘ শিল্পীজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে তুলে ধরা হয়েছে।
ক্যাফের অন্দরসজ্জাতে ছড়িয়ে রয়েছে পঙ্কজ কুমার মল্লিকের জীবন ও সৃষ্টির নানা স্মারক। এখানে সংরক্ষিত ও প্রদর্শিত হয়েছে শিল্পীর ব্যবহৃত অর্গান ও তানপুরা। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন রেকর্ড কভার, আকাশবাণীর নানা অনুষ্ঠানের রেকর্ডিংয়ের মুহূর্ত। বিভিন্ন চলচ্চিত্রের বুকলেট কভার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে তাঁর ছবি, তাঁকে নিয়ে লেখা। ভারতীয় ডাক বিভাগের প্রকাশিত ডাকটিকিট এবং বিভিন্ন পুরস্কারের ব্লো-আপ। এর পাশাপাশি রয়েছে মহান শিল্পীর গান শোনার ব্যবস্থাও। প্রতিটি স্মারক দেখলে আপনি ফিরে যাবেন বাংলা সংগীত ও চলচ্চিত্রের এক সমৃদ্ধ সময়ে।
এই প্রদর্শনীর মধ্যে দিয়ে একজন শিল্পীর সৃষ্টিশীল জগৎকে অনুভব করতে পারবেন। যাঁরা পঙ্কজ কুমার মল্লিকের গান শুনে বড় হয়েছেন, তাঁদের কাছে এই সংগ্রহ নস্টালজিয়ার এক অনন্য ঠিকানা। আর এই নতুন প্রজন্মের কাছে এটি শিল্পীর অবদান, তাঁকে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
পঙ্কজ কুমার মল্লিকের নাম উচ্চারিত হলেই বাঙালির স্মৃতিতে ফিরে আসে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-র কথা। আকাশবাণী কলকাতার মহালয়ার বিশেষ প্রভাতী অনুষ্ঠান ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। এই ঐতিহ্যময় বাড়ির সঙ্গেও তার নিবিড় সম্পর্ক।
এই সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি ইন-হাউস ক্যাফে। যেখানে দর্শনার্থীরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পর কিছুটা সময় কাটাতে পারবেন। সামনে দুর্গাপুজো। আর তাই পেটপুজোর আয়োজনেও পিছিয়ে থাকতে চায় না। এখানে শিল্পীর পছন্দের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা থাকছে সঙ্গে থাকছে চাইনিজ ও কন্টিনেন্টাল খাবার। নানা ধরনের মকটেল এবং কফির আকর্ষণীয় সম্ভার।
এবারের পুজোয় বিশেষ আকর্ষণ পকেট-ফ্রেন্ডলি মূল্যের বিভিন্ন কম্বো মিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, এটিই এই ক্যাফে তথা কালচারাল হাবের প্রথম দুর্গাপুজো।